ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মীয় সাহিত্য সংকলন, যা খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল। চর্যাপদের মাধ্যমে বাংলা ভাষার আদি রূপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই সাহিত্যকর্মটি তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের অংশ হিসেবে তিব্বতে সংরক্ষিত ছিল।
**চর্যাপদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে রচিত হয়েছিল।
— এটি মূলত বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচনা, যারা বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় তত্ত্ব প্রচারের জন্য পদ রচনা করতেন।
— চর্যাপদের ভাষা বাংলা ভাষার আদি রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
— চর্যাপদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ধর্মীয় ও দার্শনিক বিষয়বস্তু এবং সঙ্গীতমূলক পদ রচনা।
— চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ পাওয়া যায়, যা থেকে বাংলা ভাষার আদি রূপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
— চর্যাপদের প্রধান সংকলক ছিলেন মহামতি অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
**চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ করা হয়েছিল তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য।
— এই অনুবাদটি করা হয়েছিল তিব্বতি ভাষায়, যাতে তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা চর্যাপদের ধর্মীয় ও দার্শনিক বিষয়বস্তু বুঝতে পারেন।
— চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন প্রবোধচন্দ্র বাগচী, যিনি একজন বিশিষ্ট ভারতীয় পণ্ডিত ছিলেন।
— প্রবোধচন্দ্র বাগচী তার গবেষণা ও অনুবাদ কর্মের মাধ্যমে চর্যাপদের তিব্বতি সংস্করণকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) যতীন্দ্র মোহন বাগচী: তিনি একজন বিশিষ্ট ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন, চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ গ) প্রফুল্ল মোহন বাগচী: তিনি একজন ভারতীয় লেখক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন, কিন্তু চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) প্রণয়ভূষণ বাগচী: তিনি একজন ভারতীয় লেখক ও সম্পাদক ছিলেন, কিন্তু চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— চর্যাপদ: আদি বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন, প্রবোধচন্দ্র বাগচী সম্পাদিত।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
— চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ সম্পর্কিত গবেষণা প্রবন্ধ, প্রবোধচন্দ্র বাগচী।