ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) তৃতীয়া বিভক্তি
বাংলা ব্যাকরণে বিভক্তির ধারণা ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে বিভক্তি হলো এমন একটি উপাদান যা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে শব্দটির কারক সম্পর্কিত ভূমিকা নির্ধারণ করে। বিভক্তিগুলোকে প্রধানত সাত ভাগে ভাগ করা হয়: প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী। প্রতিটি বিভক্তির নির্দিষ্ট কারক সম্পর্কিত অর্থ রয়েছে।
**তৃতীয়া বিভক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তৃতীয়া বিভক্তির চিহ্ন হলো: দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, সহিত, সঙ্গে, কাছে ইত্যাদি।
— এর প্রধান কাজ হলো কর্তৃকারকের সাথে কর্মকারকের সম্পর্ক স্থাপন করা অর্থাৎ কর্ম সম্পাদনের মাধ্যম বা উপায় নির্দেশ করা।
— উদাহরণ:
— "ছাত্র দ্বারা বইটি পড়া হলো" (এখানে "ছাত্র" কর্তৃকারক এবং "দ্বারা" মাধ্যম নির্দেশ করছে)।
— "তিনি কলম দিয়া লিখিলেন" (এখানে "কলম" মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে)।
— "আমি রহিম কর্তৃক পুরস্কৃত হলাম" (এখানে "রহিম" মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে)।
— তৃতীয়া বিভক্তি কর্ম সম্পাদনের উপায় বা মাধ্যম নির্দেশ করে বলে একে কর্মকারকের মাধ্যম বিভক্তিও বলা হয়।
— বাংলা ব্যাকরণে তৃতীয়া বিভক্তির চিহ্ন হিসেবে "দিয়া" ও "দ্বারা" প্রায় সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে "দিয়া" সাধারণত কথ্য ভাষায় বেশি প্রচলিত।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) প্রথমা বিভক্তি: প্রথমা বিভক্তির চিহ্ন হলো শূন্য বিভক্তি বা কোনো বিভক্তি যুক্ত না হওয়া। এটি কর্তৃকারক নির্দেশ করে। উদাহরণ: "ছাত্র পড়ছে"।
✗ গ) দ্বিতীয়া বিভক্তি: দ্বিতীয়া বিভক্তির চিহ্ন হলো "কে" বা "রে"। এটি কর্মকারক নির্দেশ করে। উদাহরণ: "আমি রহিমকে দেখলাম"।
✗ ঘ) শূন্য বিভক্তি: শূন্য বিভক্তি হলো কোনো বিভক্তি যুক্ত না হওয়া। এটি কর্তৃকারক নির্দেশ করে। উদাহরণ: "ছেলেরা খেলছে"।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ (২০১২ সংস্করণ)
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত "বাংলা ব্যাকরণ"
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (BCS, Bank, Primary)