ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) Aedes aegypti মশা
ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান:
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা বিশ্বব্যাপী ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশেও প্রতি বছর ডেঙ্গু মহামারী আকারে দেখা দেয়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। এই রোগের প্রধান বাহক হলো *Aedes aegypti* মশা, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
**Aedes aegypti মশা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— *Aedes aegypti* মশা হলো ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস এবং হলুদ জ্বরের প্রধান বাহক।
— এই মশার বৈশিষ্ট্য হলো এর শরীরে সাদা ও কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, যার কারণে একে "টাইগার মশা" বলেও অভিহিত করা হয়।
— *Aedes aegypti* মশা সাধারণত পরিষ্কার স্থির পানিতে ডিম পাড়ে, যেমন ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি।
— এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়, বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যার সময়।
— ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড়ানোর মাধ্যমে মশার দেহে ভাইরাস প্রবেশ করে, এবং পরবর্তীতে সেই মশা সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে ভাইরাস ছড়ায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) House flies (ঘরের মাছি): ঘরের মাছি ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে না। এটি মূলত খাদ্য ও আবর্জনায় জীবাণু ছড়ায়।
✗ গ) Anopheles মশা: *Anopheles* মশা প্রধানত ম্যালেরিয়া রোগের বাহক হিসেবে পরিচিত, ডেঙ্গুর নয়।
✗ ঘ) ইঁদুর ও কাঠবেড়ালী: ইঁদুর ও কাঠবেড়ালী ডেঙ্গু রোগের বাহক নয়। এগুলো অন্যান্য রোগ যেমন লেপটোস্পাইরোসিস বা র্যাবিস ছড়াতে পারে।
উৎস:
— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর ডেঙ্গু বিষয়ক নির্দেশিকা
— বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রচারপত্র
— জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (NIPSOM) এর গবেষণা প্রতিবেদন