সঠিক উত্তর: (ক) বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝরে পড়ে
ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা:
ধান একটি গুচ্ছবদ্ধ উদ্ভিদ এবং এর ফুলগুলো ক্ষুদ্রাকৃতির। ধানের পরাগ সংযোগ প্রক্রিয়া মূলত বায়ুবাহিত পরাগরেণুর মাধ্যমে ঘটে থাকে। ধানের ফুলের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পরাগায়নের ক্ষেত্রে বাতাসকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। অন্যান্য পরাগায়নের মাধ্যম যেমন কীটপতঙ্গ বা প্রাণীর সাহায্য ধানের ক্ষেত্রে কার্যকরী নয়।
ধান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ধান (Oryza sativa) হলো পোয়েসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক প্রকার ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, যা প্রধানত খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
— ধান চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ধান প্রধান খাদ্য শস্য হিসেবে বিবেচিত।
— ধানের ফুলকে "প্যানিকল" বলা হয়, যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুলের সমষ্টি। প্রতিটি ধানের শিষে শত শত ক্ষুদ্র ফুল থাকে।
— ধানের ফুলের গঠন এমন যে এর পরাগধানীগুলো বাতাসের সামান্য ঝাঁকুনিতেই পরাগরেণু ছড়িয়ে দিতে পারে।
— ধানের পরাগ সংযোগ প্রক্রিয়াকে "বায়ুপরাগী" (Anemophilous) বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় পরাগরেণু বাতাসের মাধ্যমে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) পাতা দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে: ধানের ফুলের গঠন এমন নয় যে পাতা পরাগ স্থানান্তরে সাহায্য করবে। পাতা পরাগ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে না।
✗ গ) কীটপতঙ্গের সাহায্যে: ধান কীটপতঙ্গ দ্বারা পরাগায়িত হয় না। কীটপতঙ্গ পরাগায়ন সাধারণত বর্ণাঢ্য ফুল বিশিষ্ট উদ্ভিদে দেখা যায়, ধানের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
✗ ঘ) ফুলে ফুলে সংস্পর্শে: ধানের ফুলগুলো ক্ষুদ্র এবং পরাগ সংযোগের জন্য এক ফুল থেকে অন্য ফুলে সরাসরি সংস্পর্শের সম্ভাবনা কম। এটি প্রধানত বাতাসের মাধ্যমেই ঘটে থাকে।
উৎস:
— "ধান উৎপাদন প্রযুক্তি" — বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)
— "Plant Physiology" — Lincoln Taiz and Eduardo Zeiger
— "Agronomy of Rice" — Gurdev S. Khush