ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রগতিশীল চিন্তাবিদ ও লেখক হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর অবদান অপরিসীম। তিনি বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে আধুনিকতার ধারা প্রবর্তন করেন। তার লেখনীতে মানবতাবাদ, সংস্কৃতি ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণ পাওয়া যায়।
**মোতাহের হোসেন চৌধুরী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ১৯০৩ সালের ৩০ জুলাই সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোলাপগঞ্জ থানার ভাদেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
— তিনি ছিলেন একজন প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, লেখক ও শিক্ষাবিদ। তার লেখা প্রবন্ধগুলো বাংলা সাহিত্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘সংস্কৃতি’ বিষয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তার মতে, ধর্ম সাধারণ মানুষের সংস্কৃতি হিসেবে কাজ করে, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত ও মার্জিত মানুষের ধর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
— তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সংস্কৃতি কথা’, ‘নীল লোহিত’, ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ প্রভৃতি।
— তিনি ছিলেন ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ নামে পরিচিত একটি সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম নেতা।
— তিনি ১৯৫৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। তার লেখা প্রবন্ধগুলো মূলত প্রকৃতি ও মানব জীবনের সম্পর্ক নিয়ে। তিনি ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ে এমন কোনো উক্তি করেননি।
✗ গ) প্রমথ চৌধুরী: তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সম্পাদক। তার লেখা প্রবন্ধগুলো মূলত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে। তবে তিনি ধর্ম ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে এমন কোনো উক্তি করেননি।
✗ ঘ) কাজী আব্দুল ওদুদ: তিনি ছিলেন একজন প্রগতিশীল লেখক ও চিন্তাবিদ। তার লেখা প্রবন্ধগুলো মূলত সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে। তবে তিনি ধর্ম ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে এমন কোনো উক্তি করেননি।
উৎস:
— মোতাহের হোসেন চৌধুরী, ‘সংস্কৃতি কথা’ (প্রথম প্রকাশ: ১৯৪৯)
— আবুল আহসান চৌধুরী, ‘মোতাহের হোসেন চৌধুরী: জীবন ও সাহিত্য’ (২০০৩)
— বাংলা একাডেমি, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (তৃতীয় খণ্ড)