ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
'দিবারাত্রির কাব্য' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
**মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **জন্ম ও পরিচিতি:** মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ১৯০৮ সালের ১৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনা জেলার দুমকায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায়।
— **শিক্ষাজীবন:** তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় অনার্সসহ বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কিছুদিন শিক্ষকতা করেন।
— **সাহিত্যিক জীবন:** মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। তার সাহিত্যকর্মে সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, মানবিক সংকট প্রভৃতি বিষয় উঠে এসেছে। তিনি প্রায় ৪০টির মতো উপন্যাস এবং শতাধিক ছোটগল্প রচনা করেছেন।
— **বিখ্যাত গ্রন্থাবলি:** তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে *পদ্মানদীর মাঝি*, *পুতুলনাচের ইতিকথা*, *দিবারাত্রির কাব্য*, *সার্বজনীন*, *চতুষ্কোণ* প্রভৃতি। ছোটগল্পের মধ্যে *অতসী মামী*, *প্রাগৈতিহাসিক*, *ছোটবকুলপুরের যাত্রী* প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
— **শৈলী ও বৈশিষ্ট্য:** মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তার বাস্তববাদিতা, চরিত্র বিশ্লেষণের গভীরতা এবং সামাজিক অসঙ্গতির প্রতি তীব্র প্রতিবাদ। তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনের চিত্র তুলে ধরেছেন।
— **পুরস্কার ও সম্মাননা:** সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৬ সালে *চতুষ্কোণ* উপন্যাসের জন্য)।
— **মৃত্যু:** তিনি ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
**‘দিবারাত্রির কাব্য’ উপন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **প্রকাশকাল:** উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
— **বিষয়বস্তু:** উপন্যাসটি মূলত একজন যুবকের মানসিক দ্বন্দ্ব, প্রেম, হতাশা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতার চিত্র তুলে ধরে। কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে রয়েছে মিহির ও তার চারপাশের মানুষদের জীবনযাত্রা।
— **শৈলী:** উপন্যাসটিতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব শৈলীর পরিচয় পাওয়া যায়, যেখানে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং সামাজিক বাস্তবতার মিশ্রণ ঘটেছে।
— **গুরুত্ব:** বাংলা সাহিত্যে মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের ধারায় *দিবারাত্রির কাব্য* একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এটি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ