ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ঢাকা
দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল-দর্পণ’ নাটক বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নাটক। এটি বাংলার নীলচাষীদের উপর ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**দীনবন্ধু মিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০–১৮৭৩) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট নাট্যকার ও কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে সামাজিক নাটকের জনক হিসেবে পরিচিত।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘নীল-দর্পণ’, ‘নবীন তপস্বিনী’, ‘কমলে কামিনী’, ‘লীলাবতী’ প্রভৃতি।
— তিনি ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী এবং পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন।
— তাঁর লেখনীতে সমাজের অসঙ্গতি, বিশেষ করে নীলচাষীদের দুর্দশা অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।
— তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাবাপন্ন এবং তাঁর লেখনীতে স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে।
**‘নীল-দর্পণ’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘নীল-দর্পণ’ নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালে।
— এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সামাজিক নাটক হিসেবে বিবেচিত হয়।
— নাটকটির মূল বিষয়বস্তু ছিল বাংলার নীলচাষীদের উপর ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণ।
— নাটকটি প্রকাশের পর ইংরেজ সরকার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় ঢাকা থেকে, যা তৎকালীন পূর্ববঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা কেন্দ্র ছিল।
— নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, যা ‘Nil Durpan; or, The Indigo Planting Mirror’ নামে প্রকাশিত হয়।
— ইংরেজ সরকার নাটকটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে, কিন্তু আদালতে পরাজিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) কলকাতা: কলকাতা ছিল তৎকালীন বাংলার রাজধানী ও প্রধান প্রকাশনা কেন্দ্র, কিন্তু ‘নীল-দর্পণ’ প্রথম প্রকাশিত হয় ঢাকা থেকে।
✗ গ) লন্ডন: লন্ডন ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কেন্দ্র, কিন্তু নাটকটি সেখানে প্রকাশিত হয়নি।
✗ ঘ) মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ ছিল বাংলার প্রাচীন রাজধানী, কিন্তু নাটকটির প্রথম প্রকাশনা কেন্দ্র ছিল না।
**উৎস:**
— দীনবন্ধু মিত্রের জীবনী ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানতে ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য।
— ‘নীল-দর্পণ’ নাটকের প্রকাশনা ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (ড. দেবেশ রায়) গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য।
— বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংকেও এই তথ্য উল্লেখিত রয়েছে।