ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
<বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ ও সামাজিক নাটকের প্রেক্ষাপট>
**‘নীলদর্পণ’ নাটক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘নীলদর্পণ’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রতিবাদী নাটক হিসেবে পরিচিত, যা ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
— নাটকটির রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র, যিনি বাংলা সাহিত্যে সামাজিক নাটকের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত।
— নাটকটির বিষয়বস্তু ছিল ব্রিটিশ নীলকরদের অত্যাচার ও বাংলার কৃষকদের দুর্দশা, বিশেষত নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
— ‘নীলদর্পণ’ প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকার নাটকটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
**মাইকেল মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে সনেট ও মহাকাব্যের প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত।
— তার বিখ্যাত রচনার মধ্যে রয়েছে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’, ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ ইত্যাদি।
— তিনি ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ সাহিত্যেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) জশুয়া মার্শম্যান: তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান মিশনারি ও বাংলা ভাষার পণ্ডিত, যিনি বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। তিনি ‘নীলদর্পণ’ অনুবাদ করেননি।
✗ খ) ডেভিড হেয়ার: তিনি ছিলেন একজন স্কটিশ শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক, যিনি কলকাতায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ‘নীলদর্পণ’ অনুবাদ করেননি।
✗ গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি ছিলেন বাংলা গদ্যের জনক ও সমাজ সংস্কারক। তিনি ‘নীলদর্পণ’ অনুবাদ করেননি, তবে তিনি বাংলা সাহিত্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উৎস:
— দীনবন্ধু মিত্র, ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০)
— সুকুমার সেন, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (তৃতীয় খণ্ড)
— মাহবুবুল আলম, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’