ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) পূর্বাশা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ সম্পর্কিত পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ। এটি আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণ ও ভূখণ্ডগত বিরোধের কারণে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়।
**দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত, যা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণে অবস্থিত।
— দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার, তবে এটি জোয়ারের সময় প্রায় সম্পূর্ণ ডুবে যায় এবং ভাটার সময় সামান্য অংশ জেগে ওঠে।
— ১৯৭৪ সালের ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা চুক্তি অনুসারে, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি বাংলাদেশের অংশ হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তবে পরবর্তীতে ভারতও এর উপর নিজেদের অধিকার দাবি করে।
— ২০১৪ সালে স্থায়ী সালিশি আদালত (PCA) ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করে। আদালতের রায় অনুসারে, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি বাংলাদেশের অধিকারে রয়ে যায়।
— দ্বীপটির অপর নাম **পূর্বাশা দ্বীপ** নামে পরিচিত, যা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ব্যবহৃত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) কুতুবদিয়া: কুতুবদিয়া বাংলাদেশের একটি দ্বীপ, যা কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। এটি দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নয়।
✗ খ) সোনাদিয়া: সোনাদিয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত একটি দ্বীপ, যা দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নয়।
✗ ঘ) নারকেল জিঞ্জিরা: নারকেল জিঞ্জিরা বাংলাদেশের একটি দ্বীপ, যা সুন্দরবনের অংশ হিসেবে পরিচিত। এটি দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত মানচিত্র ও দলিল।
— ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা চুক্তি, ১৯৭৪।
— স্থায়ী সালিশি আদালত (PCA) কর্তৃক প্রদত্ত রায়, ২০১৪।
— বাংলাদেশ সরকারের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক।