ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) বিশেষণ
‘চেনা’ পদটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
**বাংলা ব্যাকরণে বিশেষণের ভূমিকা:**
বিশেষণ হলো এমন একটি পদ যা কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা ইত্যাদি প্রকাশ করে। এটি প্রধানত বিশেষ্যের আগে বসে তার বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, "লাল ফুল", "ভালো ছেলে", "দশটি বই" — এখানে "লাল", "ভালো", "দশটি" বিশেষণ পদ।
**‘চেনা’ পদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘চেনা’ শব্দটি মূলত ক্রিয়া পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো পরিচিত হওয়া বা জানা। যেমন: "আমি তাকে চিনি"।
— তবে যখন ‘চেনা’ শব্দটি কোনো বিশেষ্যের আগে বসে তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, তখন এটি বিশেষণ পদ হিসেবে কাজ করে। যেমন: "এ যে আমাদের চেনা লোক" — এখানে ‘চেনা’ শব্দটি ‘লোক’ বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করছে।
— বিশেষণ পদ হিসেবে ‘চেনা’ শব্দটি প্রায়শই বিশেষ্যের পূর্বে অবস্থান করে এবং তার পরিচিতি বা পরিচয় নির্দেশ করে।
— বাংলা ব্যাকরণে বিশেষণ পদকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: গুণবাচক বিশেষণ (যেমন: ভালো, মন্দ) এবং অবস্থাবাচক বিশেষণ (যেমন: চেনা, অচেনা)।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) বিশেষ্য: বিশেষ্য পদ হলো কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান বা বিষয়ের নাম। ‘চেনা’ শব্দটি কোনো নাম নয়, তাই এটি বিশেষ্য পদ নয়।
✗ খ) অব্যয়: অব্যয় পদ হলো এমন একটি পদ যা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাক্যে ব্যবহৃত হয়। ‘চেনা’ শব্দটি অব্যয় পদ নয়, কারণ এটি বিশেষ্য বা বিশেষণের ভূমিকায় ব্যবহৃত হতে পারে।
✗ গ) ক্রিয়া: ক্রিয়া পদ হলো কোনো কাজ করা বা হওয়া বোঝায়। ‘চেনা’ শব্দটি যখন ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি কোনো কাজ বোঝায় না, বরং পরিচিতি বোঝায়। তবে বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি ক্রিয়া পদ নয়।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান
— উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (ড. সৌমিত্র শেখর)
— বিসিএস সাধারণ জ্ঞান ও বাংলা ব্যাকরণ প্রশ্নব্যাংক