ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
<এনজিওপ্লাস্টি সম্পর্কিত সাধারণ ভূমিকা>
হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হলো এনজিওপ্লাস্টি। এটি এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে জমে থাকা ব্লকেজ বা সংকোচন দূর করা হয়। বিশেষ করে করোনারি ধমনীতে ব্লকেজ থাকলে তা দূর করতে এনজিওপ্লাস্টি করা হয়ে থাকে।
**এনজিওপ্লাস্টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **সংজ্ঞা**: এনজিওপ্লাস্টি হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে (ধমনীতে) জমে থাকা প্লাক বা ব্লকেজ সরিয়ে ফেলা হয়। এটি সাধারণত করোনারি ধমনীতে করা হয়, যা হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে।
— **পদ্ধতি**: এনজিওপ্লাস্টির সময় একটি পাতলা এবং নমনীয় টিউব (ক্যাথেটার) রোগীর কুঁচকি বা হাতের ধমনী দিয়ে প্রবেশ করানো হয়। এই টিউবের মাধ্যমে একটি ছোট বেলুন এবং স্টেন্ট নামক একটি জালিকাকার ধাতব জাল প্রবেশ করানো হয়। বেলুনটি ব্লকেজের স্থানে নিয়ে গিয়ে ফুলানো হয়, যার ফলে ব্লকেজটি চাপা পড়ে এবং রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়। এরপর স্টেন্টটি স্থায়ীভাবে ধমনীর দেয়ালে স্থাপন করা হয় যাতে ধমনীটি আবার সংকুচিত না হয়।
— **উদ্দেশ্য**: এনজিওপ্লাস্টির প্রধান উদ্দেশ্য হলো হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে ব্লকেজ দূর করে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক করা, যাতে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং পুষ্টি পেতে পারে। এটি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় এবং হৃদরোগীদের জীবনমান উন্নত করে।
— **প্রকারভেদ**: এনজিওপ্লাস্টি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন:
— **বেলুন এনজিওপ্লাস্টি**: শুধুমাত্র বেলুন ব্যবহার করে ব্লকেজ দূর করা।
— **স্টেন্ট প্লেসমেন্ট**: স্টেন্ট স্থাপনের মাধ্যমে ধমনীকে খোলা রাখা।
— **ড্রাগ-এলিউটিং স্টেন্ট (DES)**: স্টেন্টের উপর বিশেষ ওষুধ লাগানো থাকে যা ধমনীতে নতুন ব্লকেজ হওয়া প্রতিরোধ করে।
— **সাফল্যের হার**: এনজিওপ্লাস্টির সাফল্যের হার অনেক বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর হয় এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে পুনরায় ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা রিস্টেনোসিস নামে পরিচিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) হৃৎপিণ্ডে নতুন শিরা সংযোজন: এটি ভুল কারণ এনজিওপ্লাস্টিতে নতুন শিরা সংযোজন করা হয় না। এটি শুধুমাত্র বিদ্যমান ধমনীতে ব্লকেজ দূর করার জন্য করা হয়।
✗ গ) হৃৎপিণ্ডের মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দেয়া: এটি ভুল কারণ এনজিওপ্লাস্টিতে মৃত