এশিয়াকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
কজিব্রাল্টার প্রণালী
খবসফরাস প্রণালী
গবাব এল মান্দেব প্রণালী✓
ঘবেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) বাব এল মান্দেব প্রণালী
**ভূমিকা:**
বিশ্বের মহাদেশগুলোর মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-প্রাকৃতিক ভূমিকা পালন করে। এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দুটি আলাদা করার জন্য যে প্রণালীটি দায়ী, তা হলো বাব এল মান্দেব প্রণালী। এই প্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশে গুরুত্বপূর্ণ।
---
**বাব এল মান্দেব প্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **অবস্থান ও গুরুত্ব:** বাব এল মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরকে আদেন উপসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। এটি ইয়েমেন ও জিবুতি দেশ দুটির মধ্যে অবস্থিত।
— **নামের উৎপত্তি:** আরবি ভাষায় "বাব এল মান্দেব" অর্থ হলো "অশ্রু দ্বারের প্রবেশদ্বার"। এই নামকরণের পেছনে রয়েছে স্থানীয় ইতিহাস ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।
— **দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ:** প্রণালীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২ কিলোমিটার এবং সর্বনিম্ন প্রস্থ প্রায় ২৬ কিলোমিটার।
— **বাণিজ্যিক গুরুত্ব:** এটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের প্রায় ১০% সামুদ্রিক বাণিজ্য এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়।
— **রাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব:** প্রণালীটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) জিব্রাল্টার প্রণালী:** এটি আফ্রিকা মহাদেশকে ইউরোপ মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে। স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে অবস্থিত এই প্রণালীটি ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করে।
✗ **খ) বসফরাস প্রণালী:** এটি ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথক করেছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই প্রণালীটি মারমারা সাগরকে কৃষ্ণ সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
✗ **ঘ) বেরিং প্রণালী:** এটি এশিয়া মহাদেশকে উত্তর আমেরিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে। রাশিয়া ও আলাস্কার মধ্যে অবস্থিত এই প্রণালীটি উত্তর মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে।
---
**উৎস:**
- ভূগোল বিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক (যেমন: ভূগোল ও পরিবেশ, মাধ্যমিক ভূগোল)
- জাতীয় বিশ্বকোষ (বাংলা একাডেমি)
- আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO) কর্তৃক প্রকাশিত সামুদ্রিক পথ সম্পর্কিত তথ্য