ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ
**এসবেসটস সম্পর্কে সাধারণ ধারণা:**
এসবেসটস (Asbestos) হলো এক ধরনের প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত খনিজ তন্তু যা অত্যন্ত শক্তিশালী, নমনীয় এবং তাপ ও বিদ্যুৎ প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি আগুন প্রতিরোধক ক্ষমতার কারণে নির্মাণ সামগ্রী, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। তবে এর ক্ষতিকর স্বাস্থ্যগত প্রভাবের কারণে বর্তমানে অনেক দেশে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত।
---
**এসবেসটস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **রাসায়নিক গঠন ও প্রকৃতি:**
— এসবেসটস হলো সিলিকেট খনিজ পদার্থের একটি গ্রুপ, যার প্রধান উপাদান হলো ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন এবং অক্সিজেন।
— এটি মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে: **ক্রিসোটাইল** (সাদা এসবেসটস) এবং **অ্যামোসাইট** (বাদামি এসবেসটস)। ক্রিসোটাইল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো।
— এর তন্তুগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং দীর্ঘায়িত, যা সহজেই বাতাসে ভাসতে পারে।
— **বৈশিষ্ট্য:**
— **অগ্নি প্রতিরোধক:** এসবেসটস উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে (সাধারণত ৫০০–১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত), তাই এটি আগুন প্রতিরোধক সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।
— **বিদ্যুৎ নিরোধক:** এটি বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রতিরোধ করতে পারে, তাই বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ইনসুলেশন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
— **রাসায়নিক প্রতিরোধক:** এটি ক্ষার ও অ্যাসিডের প্রতিরোধ ক্ষমতা রাখে, তাই রাসায়নিক শিল্পেও এর ব্যবহার ছিল।
— **শক্তিশালী ও নমনীয়:** এর তন্তুগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নমনীয় হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।
— **ব্যবহার:**
— **নির্মাণ সামগ্রী:** ছাদ, দেয়াল, মেঝে এবং পাইপের ইনসুলেশনে ব্যবহৃত হতো।
— **বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি:** বৈদ্যুতিক তার, সুইচবোর্ড এবং বৈদ্যুতিক মোটরের ইনসুলেশনে ব্যবহৃত হতো।
— **গাড়ি ও যানবাহন:** ব্রেক প্যাড, ক্লাচ এবং অন্যান্য অংশে ব্যবহৃত হতো।
— **অগ্নি প্রতিরোধক পোশাক:** ফায়ারফাইটারদের পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।
— **স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি:**
— **ফুসফুসের রোগ:** এসবেসটস তন্তু শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করলে ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা **এসবেসটোসিস**, ফুসফুসের ক্যান্সার (**মেসোথেলিওমা**) এবং অন্যান্য ফুসফুসের রোগের কারণ হতে পারে।
— **ক্যান্সারের ঝুঁকি:** দীর্ঘমেয়াদি এক্সপোজারের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
— **বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা