ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) পর্তুগিজ
'গির্জা' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত একটি বিদেশি শব্দ।
বিদেশি শব্দ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দগুলো বাংলা ভাষায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। কারণ, পর্তুগিজরা প্রায় ১৫০ বছর ধরে বাংলায় উপনিবেশ স্থাপন করেছিল এবং তাদের ভাষার প্রভাব বাংলা ভাষায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
— 'গির্জা' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষার 'igreja' থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যার অর্থ খ্রিস্টানদের উপাসনালয় বা চার্চ।
— পর্তুগিজদের আগমনের আগে বাংলায় খ্রিস্টধর্মের প্রচলন ছিল না, তাই 'গির্জা' শব্দটির আগমন ঘটে পর্তুগিজদের মাধ্যমে।
— অন্যান্য বিদেশি শব্দের মতো 'গির্জা' শব্দটিও বাংলা ভাষায় স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছে এবং সাধারণ ব্যবহারের অংশ হয়ে উঠেছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ফারসী: ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দগুলো সাধারণত আরবি-ফারসি শব্দ হিসেবে পরিচিত, যেমন 'দরবার', 'হুকুম', 'আমল' ইত্যাদি। 'গির্জা' শব্দটির সাথে ফারসির কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ গ) ওলন্দাজ: ওলন্দাজ ভাষা থেকে আগত শব্দগুলো বাংলায় কম ব্যবহৃত হয়। যেমন 'ইস্কাবন' (স্কাবিন্ড), 'তুরুপ' (ত্রফ) ইত্যাদি। 'গির্জা' শব্দটির সাথে ওলন্দাজের কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) পাঞ্জাবী: পাঞ্জাবি ভাষা থেকে আগত শব্দগুলো বাংলায় খুবই কম ব্যবহৃত হয়। যেমন 'লঙ্গরখানা', 'চাপ্পল' ইত্যাদি। 'গির্জা' শব্দটির সাথে পাঞ্জাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (২য় সংস্করণ)
— বিদেশি শব্দের বাংলা পরিভাষা (বাংলা একাডেমি)
— বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের প্রভাব (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)