সঠিক উত্তর: (খ) লক্ষ্মণ সেনের
**ভূমিকা:**
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য হিসেবে পরিচিত ‘গীতগোবিন্দ’। এই মহাকাব্যের রচয়িতা জয়দেব ছিলেন একজন প্রখ্যাত সংস্কৃত কবি। তাঁর রচিত এই কাব্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। জয়দেব কার সভাকবি ছিলেন তা জানা গেলে তাঁর সাহিত্যকর্মের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হয়।
**জয়দেব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জয়দেব ছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত সংস্কৃত কবি। তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন তিনি ভারতের ওড়িশা রাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
— তাঁর সর্বাধিক বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দ’ যা সংস্কৃত ভাষায় রচিত একটি কাব্য। এই কাব্যে কৃষ্ণ ও রাধার প্রেমের বর্ণনা রয়েছে।
— জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্য বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই কাব্যের প্রভাব বাংলা সাহিত্যের পরবর্তীকালের সাহিত্যিকদের উপরও পড়েছে।
— জয়দেবের জীবনকাল সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হয় তিনি দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে অথবা ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে জীবিত ছিলেন।
**লক্ষ্মণ সেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— লক্ষ্মণ সেন ছিলেন বাংলার সেন রাজবংশের শেষ রাজা। তিনি ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন।
— তাঁর রাজত্বকালে বাংলার রাজধানী ছিল নবদ্বীপ (বর্তমান বাংলাদেশের নদীয়া জেলা)। তাঁর রাজত্বকাল বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
— লক্ষ্মণ সেন ছিলেন একজন বিদ্যানুরাগী রাজা। তাঁর রাজসভা সংস্কৃত সাহিত্য ও বিদ্যার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বিখ্যাত ছিল।
— জয়দেব তাঁর রাজসভা অলংকৃত করেছিলেন বলে ঐতিহাসিকদের ধারণা। জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্য লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকালেই রচিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) শশাঙ্কদেবের: শশাঙ্কদেব ছিলেন বাংলার সেন রাজবংশের পূর্ববর্তী রাজা। তিনি গৌড় রাজ্যের রাজা ছিলেন। জয়দেব তাঁর সভাকবি ছিলেন এমন কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
✗ গ) যশোবর্মনের: যশোবর্মন ছিলেন গুপ্ত রাজবংশের পরবর্তীকালের একজন রাজা। তিনি মালব অঞ্চলের রাজা ছিলেন। জয়দেব তাঁর সভাকবি ছিলেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
✗ ঘ) হর্ষবর্ধনের: হর্ষবর্ধন ছিলেন ভারতের থানেশ্বর ও কনৌজের রাজা। তিনি সপ্তম শতাব্দীর রাজা ছিলেন। জয়দেব তাঁর সমসাময়িক ছিলেন না বলে মনে করা হয়।
**উৎস:**
— ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ — মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান
— ‘গীতগোবিন্দ’ — জয়দেব (সংস্কৃত থেকে বাংলা অনুবাদ)
— ‘সেন রাজবংশের ইতিহাস’ — রমেশচন্দ্র মজুমদার