ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাসে ‘গ্লাসনস্ত’ একটি যুগান্তকারী নীতি হিসেবে পরিচিত।
**‘গ্লাসনস্ত’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **গ্লাসনস্ত** (রুশ: *Гласность*, অর্থ: "খোলামেলা" বা "উন্মুক্ততা") ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা **মিখাইল গর্বাচেভ** কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সংস্কার নীতি, যা ১৯৮৫ সালে শুরু হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগ পর্যন্ত চালু ছিল।
— এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কিছুটা হলেও পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এবং জনগণের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা প্রকাশের অধিকার প্রদান করা।
— গ্লাসনস্তের ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, অর্থনৈতিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে, যা পূর্বে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
— এই নীতির ফলে বিভিন্ন প্রজাতন্ত্রে স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদার হয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পথ প্রশস্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো (এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া) স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
— গ্লাসনস্তের কারণে পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়, যার ফলে ১৯৮৯ সালে পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর পতন ঘটে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) চীন**: চীনেও সংস্কার হয়েছে, কিন্তু তা গ্লাসনস্ত নামে পরিচিত নয়। চীনের সংস্কার ছিল মূলত অর্থনৈতিক উদারীকরণের দিকে, যেমন "চার আধুনিকীকরণ" নীতি। গ্লাসনস্ত ছিল রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রীকরণের দিকে।
✗ **গ) হাঙ্গেরি**: হাঙ্গেরিও সমাজতান্ত্রিক দেশ ছিল, কিন্তু গ্লাসনস্তের সূচনা হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নে। হাঙ্গেরিতে সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হয়েছিল ১৯৫৬ সালে, কিন্তু গ্লাসনস্তের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
✗ **ঘ) পোল্যান্ড**: পোল্যান্ডেও সমাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন ছিল (যেমন সলিডারিটি আন্দোলন), কিন্তু গ্লাসনস্ত ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ নীতি। পোল্যান্ডের ঘটনাগুলো ছিল গ্লাসনস্তের প্রভাবের ফলাফল।
**উৎস:**
- *The Rise and Fall of the Soviet Union* – Martin McCauley (২০০৭)
- *Gorbachev: His Life and Times* – William Taubman (২০১৭)
- BCS সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নব্যাংক (২০২০-২০২৩), বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন