ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) রাজশাহী
বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের ধারায় ‘গম্ভীরা’ একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় সঙ্গীত ধারা হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
**‘গম্ভীরা’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **উৎপত্তি ও অঞ্চল**: গম্ভীরা বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলের একটি প্রাচীন লোকসঙ্গীত ধারা। এটি মূলত রাজশাহী জেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও পাবনা জেলার মানুষের সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে জড়িত।
— **সাংস্কৃতিক গুরুত্ব**: গম্ভীরা সঙ্গীতের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষেরা তাদের জীবনের আনন্দ, দুঃখ, ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক বার্তা প্রকাশ করে। এটি প্রায়শই ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ের অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়।
— **গম্ভীরা সঙ্গীতের বৈশিষ্ট্য**:
— এটি সাধারণত দুইজন গায়কের মাধ্যমে পরিবেশিত হয়, যেখানে একজন প্রধান গায়ক এবং অন্যজন উত্তর গায়ক হিসেবে কাজ করে।
— গম্ভীরা সঙ্গীতের কথাগুলো সাধারণত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে থাকে, বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
— সঙ্গীতের সাথে ঢোল, খঞ্জনি, মন্দিরা ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হয়।
— **গম্ভীরা উৎসব**: রাজশাহী অঞ্চলে প্রতি বছর গম্ভীরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করে এবং তাদের সঙ্গীত পরিবেশন করে। এটি স্থানীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) পার্বত্য চট্টগ্রাম: পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকসঙ্গীতের মধ্যে রয়েছে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা প্রভৃতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গীত। গম্ভীরা এ অঞ্চলের সঙ্গীত নয়।
✗ খ) সিলেট: সিলেট অঞ্চলের লোকসঙ্গীতের মধ্যে রয়েছে ভাটিয়ালি, মারফতি, বাউল ইত্যাদি। গম্ভীরা সিলেট অঞ্চলের সঙ্গীত নয়।
✗ ঘ) রংপুর: রংপুর অঞ্চলের লোকসঙ্গীতের মধ্যে রয়েছে ভাওয়াইয়া, ঝুমুর ইত্যাদি। গম্ভীরা রংপুর অঞ্চলের সঙ্গীত নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের লোকসঙ্গীত’ বিষয়ক গ্রন্থ।
— রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসংস্কৃতি বিভাগের প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা পত্র।
— বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ শীর্ষক গ্রন্থ।