ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) নেপালে জলাধার নির্মাণ
গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ভারতের সাথে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গঙ্গার পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে।
**গঙ্গা নদী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গঙ্গা নদী ভারত ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী। এটি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
— গঙ্গা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৫২৫ কিলোমিটার, যার মধ্যে বাংলাদেশ অংশে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার।
— গঙ্গার প্রধান শাখা নদীসমূহ হলো পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ইত্যাদি।
— গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ভারতের সাথে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ৩০ বছর মেয়াদী ছিল। তবে এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পানি প্রবাহ পায়নি।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে সংযোগ খাল খনন: এই প্রস্তাবটি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ। তবে এটি কার্যকরভাবে গঙ্গার পানি প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক নয়, কারণ এটি মূলত দুটি নদীর মধ্যে পানি স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
✗ গ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ করলে তা স্থানীয়ভাবে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি গঙ্গার মূল প্রবাহ বৃদ্ধিতে কোনো ভূমিকা রাখবে না।
✗ ঘ) গঙ্গার শাখা নদীসমূহের পানি প্রবাহ বৃদ্ধি: গঙ্গার শাখা নদীসমূহের পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করা গঙ্গার মূল প্রবাহ বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে না, কারণ শাখা নদীগুলো মূলত গঙ্গার উপনদী হিসেবে কাজ করে।
উৎস:
- বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও নথি।
- গঙ্গা পানি চুক্তি (১৯৯৬) সম্পর্কিত সরকারি দলিল।
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি সম্পদ বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা।