ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) পরমতসহিষ্ণুতা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো এমন একটি ধারণা যা ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও আদর্শকে নির্দেশ করে। গণতন্ত্রের সফল কার্যক্রমের জন্য কিছু মৌলিক উপাদান অপরিহার্য, যার মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
**পরমতসহিষ্ণুতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— পরমতসহিষ্ণুতা হলো অন্যের মতামত, বিশ্বাস ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং নিজের মতামতকে অন্যের উপর চাপিয়ে না দেওয়া।
— এটি গণতন্ত্রের একটি মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন মতামতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়।
— পরমতসহিষ্ণুতা ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত।
— এটি সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে, কারণ ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
— গণতান্ত্রিক সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে সংখ্যালঘুর অধিকার ক্ষুন্ন হতে পারে এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য: নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নয়। আনুগত্য নেতৃত্বের প্রতি হতে পারে, তবে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অধিকার।
✗ খ) স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন: স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য হলেও এটি পরমতসহিষ্ণুতার মতো মৌলিক মূল্যবোধ নয়। নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ হলেও জনগণের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।
✗ গ) শক্তিশালী রাজনৈতিক দল: শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে এটি পরমতসহিষ্ণুতার মতো মৌলিক মূল্যবোধ নয়। রাজনৈতিক দলের শক্তি থাকলেও জনগণের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস পায়।
উৎস:
— গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থ, যেমন: "গণতন্ত্রের তত্ত্ব ও অনুশীলন" (ড. আবুল কাসেম ফজলুল হক)
— বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা)
— বিভিন্ন বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও সমাধান