ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) নাথধর্ম
<বিষয় সম্পর্কিত ভূমিকা>
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মীয় ও দার্শনিক বিষয়াবলি নিয়ে রচিত বিভিন্ন কাব্যের মধ্যে ‘গোরক্ষ বিজয়’ একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় সাহিত্যকর্ম। এটি নাথধর্মের দর্শন ও কাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যের ধর্মীয় সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
---
**নাথধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— নাথধর্ম হলো ভারতীয় উপমহাদেশের একটি ধর্মীয় ও যোগিক সম্প্রদায়ভিত্তিক দর্শন। এটি মূলত শৈবধর্মের একটি শাখা হিসেবে বিকশিত হয়েছে, তবে এটি যোগ ও তন্ত্রের প্রভাবেও সমৃদ্ধ।
— নাথধর্মের প্রধান গুরু হিসেবে বিবেচনা করা হয় আদিনাথ বা মহাদেবকে। এছাড়া গুরু গোরক্ষনাথকে এই ধর্মের অন্যতম প্রধান প্রচারক হিসেবে গণ্য করা হয়।
— নাথধর্মের অনুসারীরা প্রধানত যোগাভ্যাস, ধ্যান, এবং তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করে থাকেন। তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘গোরক্ষ সংহিতা’, ‘হঠযোগ প্রদীপিকা’, এবং ‘গোরক্ষ বিজয়’ উল্লেখযোগ্য।
— নাথধর্মের দর্শনে শিবকে পরমেশ্বর হিসেবে মানা হয়, এবং যোগসাধনার মাধ্যমে মোক্ষলাভের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
---
**‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘গোরক্ষ বিজয়’ একটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্য, যা চতুর্দশ শতাব্দীতে রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
— এই কাব্যের রচয়িতা হিসেবে কবি শেখ ফয়জুল্লাহকে চিহ্নিত করা হয়, যিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কবি হিসেবে পরিচিত।
— ‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্যে নাথধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গোরক্ষনাথের জীবনকাহিনি ও তাঁর ধর্মীয় শিক্ষা বর্ণিত হয়েছে। এটি মূলত গোরক্ষনাথের মহিমা ও তাঁর যোগসাধনার বর্ণনা।
— কাব্যটিতে গোরক্ষনাথের বিভিন্ন চমৎকার কাহিনি, যেমন তাঁর জন্ম, সাধনা, এবং তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা বর্ণিত হয়েছে। এটি মূলত ধর্মীয় উপদেশ ও নৈতিক শিক্ষার উপর ভিত্তি করে রচিত।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) শৈবধর্ম: শৈবধর্ম হলো শিবের উপাসনা কেন্দ্রিক একটি ধর্মমত, যা নাথধর্মের একটি অংশ হলেও ‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্যটি সরাসরি শৈবধর্মের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নয়। এটি মূলত নাথধর্মের উপর ভিত্তি করে লেখা।
✗ খ) বৌদ্ধ সহজযান: বৌদ্ধ সহজযান হলো বৌদ্ধধর্মের একটি বিশেষ ধারা, যা তন্ত্র ও যোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্যটি বৌদ্ধ সহজযানের কাহিনির উপর ভিত্তি করে লেখা নয়।
✗ ঘ) কোনোটি নয়: এটি ভুল কারণ ‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্যটি সরাসরি নাথধর্মের কাহিনি অবলম্বনে লেখা হয়েছে।
---
**উৎস:**
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান
— মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— বাংলা সাহিত