ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) নাট্যগীতি
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে পরিচিত একটি মহাকাব্যিক কাব্য। এর গঠনরীতি বিশ্লেষণ করলে এটি মূলত নাট্যগীতির বৈশিষ্ট্য বহন করে।
**"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম কাব্য হিসেবে বিবেচিত, যা দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
— কাব্যটির রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস, যিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
— "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" মূলত শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমকাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে, যেখানে কৃষ্ণের লীলা ও রাধার বিরহের বর্ণনা রয়েছে।
— কাব্যটির গঠনরীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি গীতিকবিতা নয় বরং নাটকের মতো সংলাপ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে।
— কাব্যটিতে বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ রয়েছে, যা নাটকের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। যেমন: কৃষ্ণ, রাধা, বড়াই প্রভৃতি চরিত্রের মাধ্যমে কাহিনী এগিয়ে গেছে।
— কাব্যটি ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত, যেখানে প্রতিটি খণ্ডে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বা প্রসঙ্গ বর্ণিত হয়েছে।
— এটি মূলত গীতিকবিতা নয়, কারণ গীতিকবিতায় সাধারণত একক কবির অনুভূতি প্রকাশ পায়, যেখানে নাট্যগীতি বা নাটকের মতো বহু চরিত্রের সমাবেশ থাকে না।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) পদাবলি: পদাবলি হলো ভক্তিমূলক গান বা কবিতা, যা সাধারণত একক কবির অনুভূতি প্রকাশ করে। "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" পদাবলি নয়, কারণ এটি বহু চরিত্রের সংলাপ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে।
✗ খ) ধামালি: ধামালি হলো এক ধরনের লোকসঙ্গীত, যা সাধারণত গ্রামীণ পরিবেশে গাওয়া হয়। এটি সাহিত্যের উচ্চাঙ্গ রীতির অন্তর্ভুক্ত নয়।
✗ গ) গ্রেমগীতি: গ্রেমগীতি হলো প্রেমের গান বা কবিতা, যা সাধারণত একক কবির অনুভূতি প্রকাশ করে। "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" প্রেমকাহিনী হলেও এটি গ্রেমগীতি নয়, কারণ এর গঠনরীতি নাট্যগীতির মতো।
উৎস:
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন (ড. দীনেশচন্দ্র সেন)
— মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য (বোর্ড প্রণীত)