ব্যাখ্যা
• গৌড়ী প্রাকৃত বলতে বোঝায়-
গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে , গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে।
অর্থাৎ বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি কোনো সময়ে, অর্থাৎ সপ্তম শতকে, গৌড়ি প্রাকৃত থেকে জন্ম নিয়েছিল আধুনিকতম প্রাকৃত বাংলা ভাষার। তাহলে দেখা গেল বাংলা ভাষার উৎপত্তি সরাসরি সংস্কৃত ভাষ্য থেকে হয়নি।
– অর্থাৎ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।
• কিন্তু ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন মগধ জনপদের মানুষের মুখের ভাষা। অর্থাৎ মগধ অঞ্চলের প্রাকৃজনের ভাষা বা মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করেছে।
– সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন দশ শতকে, ১০০ থেকে ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে, মাগবি অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।
– কিন্তু মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন খ্রিষ্টীয় সাত শতকে, ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে, গৌড় অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।
প্রথম থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত সময়ের বাংলা ভাষাকে প্রধানত তিন যুগে ভাগ করা হয়। যেমন: ১। প্রাচীন যুগ: ৬৫০ (মতান্তরে ১৫০) থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত।২। মধ্যযুগ: ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত।
৩। আধুনিক যুগ: ১৮০০ থেকে বর্তমান পর্যন্ত।
[এর মধ্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত কালকে সন্ধিযুগ বা অন্ধকার যুগ ধরা হয়।]
বাংলা ভাষা বিবর্তনের রূপরেখা-
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।