ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
গ্রিনহাউজ ইফেক্ট বা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের মতো নিম্নভূমির দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ভূমি নিমজ্জিত হওয়া। এটি বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।
**গ্রিনহাউজ ইফেক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গ্রিনহাউজ ইফেক্ট হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাস (যেমন: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড) অতিরিক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে সূর্যের তাপ ধরে রাখে, ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
— বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
— বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে মাত্র ৮ মিটার উচ্চতার। দেশের প্রায় ৮০% এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০ মিটারের কম উচ্চতায় অবস্থিত।
— সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশের প্রায় ২০% ভূমি পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।
**বাংলাদেশের উপর গ্রিনহাউজ ইফেক্টের প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চল, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।
— ভূমি হারানো: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় এলাকায় ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পাবে এবং বহু মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
— লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের পানি ভূমিতে প্রবেশ করে কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস করবে এবং মিঠা পানির উৎস দূষিত হবে।
— জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম ধ্বংস হয়ে যাবে, যা বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ হবে।
— অর্থনৈতিক ক্ষতি: কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে: গ্রিনহাউজ ইফেক্টের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি হলো ভূমি নিমজ্জিত হওয়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি নয়।
✗ গ) নাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে: গ্রিনহাউজ ইফেক্টের ফলে ঘূর্ণিঝড় ও নাইক্লোনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য প্রত্যক্ষ ক্ষতি নয়, পরোক্ষ ক্ষতি।
✗ ঘ) বৃষ্টিপাত কমে যাবে: গ্রিনহাউজ ইফেক্টের ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়। তবে এটি