ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
গ্রিনহাউস ইফেক্ট হলো এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ সূর্য থেকে আগত তাপকে ধরে রাখে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়া ছাড়া পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা অনেক বেশি ঠান্ডা হতো এবং জীবনধারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তো। তবে মানবসৃষ্ট কারণে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই প্রক্রিয়া অতিরিক্ত তাপ ধরে রাখছে, যার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
**গ্রিনহাউস ইফেক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গ্রিনহাউস ইফেক্ট হলো এমন একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যেখানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), জলীয় বাষ্প (H₂O) এবং অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস সূর্য থেকে আগত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত বিকিরণকে শোষণ করে এবং পুনরায় বিকিরণ করে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।
— গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনহাউস গ্যাস হলো মিথেন (প্রধানত কৃষিকাজ, পশুপালন ও জৈব পদার্থ পচনের ফলে উৎপন্ন হয়) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (কৃষিজমিতে সার ব্যবহারের ফলে উৎপন্ন হয়)।
— গ্রিনহাউস ইফেক্টের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫°C থাকে। যদি এই গ্যাসগুলো না থাকতো, তাহলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হতো প্রায় -১৮°C, যা জীবনের জন্য অনুপযোগী।
— মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন:
— জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো (বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহন, শিল্পকারখানা)
— বন উজাড় (বৃক্ষ কমে যাওয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ কমে যাচ্ছে)
— কৃষিকাজ ও পশুপালন (মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড নির্গমন বৃদ্ধি)
— গ্রিনহাউস ইফেক্ট বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) সূর্যালোকের অভাবে সালোক সংশ্লেষণে ঘাটতি:
— সূর্যালোকের অভাবে সালোক সংশ্লেষণে ঘাটতি হতে পারে, তবে এটি গ্রিনহাউস ইফেক্টের সংজ্ঞা নয়। গ্রিনহাউস ইফেক্ট হলো তাপ ধরে রাখার প্রক্রিয়া