ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
হাজং জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের একটি অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়, যারা প্রধানত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বসবাস করে। তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
**হাজং জনগোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— হাজংরা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার প্রধান আদিবাসী সম্প্রদায়। এছাড়া তারা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় অঞ্চলেও বসবাস করে।
— তাদের ভাষা হলো হাজং ভাষা, যা তিব্বত-বর্মী ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। তবে অধিকাংশ হাজং মানুষ বাংলা ভাষাতেও কথা বলে।
— হাজং সমাজ মূলত কৃষিনির্ভর। তারা জুম চাষের মাধ্যমে ধান, ভুট্টা, সরিষা প্রভৃতি ফসল উৎপাদন করে।
— তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রকৃতি পূজা ও পূর্বপুরুষদের উপাসনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক হাজং মানুষ খ্রিস্টধর্মেও ধর্মান্তরিত হয়েছে।
— হাজংদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে রয়েছে মহিলাদের জন্য লুঙ্গি ও ওড়না এবং পুরুষদের জন্য লুঙ্গি ও গেঞ্জি। মহিলারা বিশেষ ধরনের গহনা যেমন নোলক, চুড়ি ইত্যাদি পরিধান করে।
— হাজং সমাজ ব্যবস্থা মূলত মাতৃতান্ত্রিক। পরিবারের প্রধান হন মহিলা সদস্যরা।
— বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক হাজংদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) কক্সবাজার ও রামু: কক্সবাজার ও রামু অঞ্চলে মূলত চাকমা, মারমা ও রাখাইন জনগোষ্ঠীর বসবাস। হাজংদের সাথে এ অঞ্চলের কোনো ঐতিহাসিক বা ভৌগোলিক সম্পর্ক নেই।
✗ গ) রংপুর ও দিনাজপুর: রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে রাজবংশী, সাঁওতাল, ওরাওঁ প্রভৃতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। হাজংরা এ অঞ্চলে বসবাস করে না।
✗ ঘ) সিলেট ও মণিপুর: সিলেট অঞ্চলে প্রধানত সিলেটি মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। মণিপুর ভারতের একটি রাজ্য হলেও বাংলাদেশের মণিপুর অঞ্চলে কোনো আদিবাসী সম্প্রদায় হিসেবে হাজংদের অস্তিত্ব নেই।
উৎস:
— আদিবাসী অধিকার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ (www.indigenousrightsbd.org)
— বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (www.bncic.gov.bd)
— বাংলাদেশ সরকারের আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কমিশনের প্রতিবেদন