ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) কুয়েনলুন পর্বত
হোয়াংহো নদী সম্পর্কিত ভূমিকা:
হোয়াংহো বা হলুদ নদী চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং বিশ্বের ষষ্ঠ দীর্ঘতম নদী হিসেবে পরিচিত। এটি চীনের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নদীটির নামকরণ করা হয়েছে এর হলুদ বর্ণের পলির কারণে, যা নদীর প্রবাহকে প্রভাবিত করে। হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি ও গতিপথ সম্পর্কে জানা সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (BCS, Bank, Primary, NTRCA) প্রায়শই প্রশ্ন আসে।
হোয়াংহো নদী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **উৎপত্তিস্থল**: হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কুয়েনলুন পর্বতমালার মধ্য থেকে। কুয়েনলুন পর্বতমালা তিব্বতীয় মালভূমিতে অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম উচ্চ পর্বতশ্রেণি।
— **দৈর্ঘ্য**: প্রায় ৫,৪৬৪ কিলোমিটার, যা চীনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বোহাই সাগরে মিলিত হয়েছে।
— **অববাহিকা**: হোয়াংহো অববাহিকা চীনের প্রায় ৭৫২,৪৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যা দেশটির মোট আয়তনের প্রায় ৮%।
— **প্রবাহ পথ**: নদীটি কুয়েনলুন পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়, তারপর উত্তর দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত বোহাই সাগরে পতিত হয়।
— **অর্থনৈতিক গুরুত্ব**: হোয়াংহো অববাহিকা চীনের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর অন্যতম কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে এই অঞ্চল কৃষি, শিল্প ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
— **বন্যা ও নিয়ন্ত্রণ**: হোয়াংহো নদীকে "চীনের দুঃখ" বলা হয় কারণ এর বন্যা ইতিহাসে বহু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি করেছে। চীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) হিমালয়: হিমালয় পর্বতমালা দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রধান পর্বতশ্রেণি, যা ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ জুড়ে বিস্তৃত। হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি হিমালয় থেকে নয়, বরং কুয়েনলুন পর্বত থেকে।
✗ গ) ব্ল্যাক ফরেস্ট: ব্ল্যাক ফরেস্ট জার্মানির একটি বিখ্যাত বনাঞ্চল, যা ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার কাছাকাছি অবস্থিত। এটি হোয়াংহো নদীর উৎপত্তিস্থল নয়।
✗ ঘ) আল্পস: আল্পস ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণি, যা ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি ও অস্ট্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি আল্পস থেকে নয়, বরং এশিয়ার কুয়েনলুন পর্বত থেকে।
উৎস:
— "Geography of China" by David Leeming (Oxford University Press)
— "Rivers of the World" by Patrick Nunn (Cambridge University Press)
— বিভিন্ন