ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) সৈয়দ আলাওল
‘হপ্তপয়কর’ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এটি একটি ফার্সি শব্দ যার অর্থ ‘সাতটি উপাখ্যান’। এই গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
**সৈয়দ আলাওল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান মুসলিম কবি। তিনি ১৭ শতকের প্রথমার্ধে (১৬০৭-১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) জীবিত ছিলেন।
— তিনি ছিলেন আরাকান রাজসভার অন্যতম প্রধান কবি। আরাকান রাজসভা ছিল তৎকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কেন্দ্র।
— তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘পদ্মাবতী’, ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’, ‘তোহফা’, ‘হপ্তপয়কর’, ‘সিকান্দারনামা’ প্রভৃতি।
— ‘হপ্তপয়কর’ গ্রন্থটি তিনি আরাকান রাজা শ্রীসুধর্মার অনুরোধে রচনা করেন। এটি মূলত ফার্সি কবি নিজামীর ‘হফত পয়কর’ অবলম্বনে রচিত।
— তার কাব্যে প্রেম, ভক্তি, ধর্মীয় বিষয় এবং ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) জৈনুদ্দিন: তিনি ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন কবি, তবে ‘হপ্তপয়কর’ তার রচনা নয়। তিনি মূলত ‘রসুলবিজয়’ নামে একটি কাব্য রচনা করেন।
✗ গ) দীনবন্ধু মিত্র: তিনি ছিলেন উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের একজন নাট্যকার। তার বিখ্যাত নাটক ‘নীলদর্পণ’। তিনি ‘হপ্তপয়কর’ রচনা করেননি।
✗ ঘ) অমিয় দেব: তিনি ছিলেন বিশ শতকের একজন বাংলা সাহিত্যের লেখক ও অনুবাদক। তিনি মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনার ইংরেজি অনুবাদ করেন। ‘হপ্তপয়কর’ তার রচনা নয়।
উৎস:
— মাহবুবুল আলম সম্পাদিত ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (দ্বিতীয় খণ্ড)
— আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ রচিত ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা’ (প্রথম খণ্ড)
— সৈয়দ আলাওল রচিত ‘হপ্তপয়কর’ (মূল গ্রন্থ)