ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৮৬ সালে
**হরিপুরে তেল আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট:**
বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের ইতিহাসে হরিপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দেশের প্রথম তেলক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হরিপুরে তেল আবিষ্কারের ঘটনা বাংলাদেশের শক্তি খাতের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
**হরিপুর তেলক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— হরিপুর তেলক্ষেত্রটি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট জেলার হরিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি দেশের প্রথম আবিষ্কৃত তেলক্ষেত্র।
— ১৯৮৬ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) হরিপুরে তেল আবিষ্কার করে।
— তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কারের ফলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নিজস্ব উৎস থেকে তেল উত্তোলনের সুযোগ পায়।
— প্রাথমিকভাবে হরিপুর তেলক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ৫,০০০ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হতো। তবে বর্তমানে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
— হরিপুর তেলক্ষেত্রের তেলের বৈশিষ্ট্য হলো এটি হালকা ও মোমযুক্ত, যা পরিশোধনের জন্য উপযোগী।
— তেলক্ষেত্রটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার এবং এটি ভূগর্ভস্থ প্রায় ৩,০০০ মিটার গভীরে অবস্থিত।
— হরিপুর তেলক্ষেত্রের তেল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ১৯৪৭ সালে: ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় হরিপুর তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়নি। এটি পরবর্তী সময়ে আবিষ্কৃত হয়।
✗ গ) ১৯৮৫ সালে: ১৯৮৫ সালে হরিপুরে তেল আবিষ্কৃত হয়নি। এটি পরবর্তী বছরে আবিষ্কৃত হয়।
✗ ঘ) ১৯৮৪ সালে: ১৯৮৪ সালেও হরিপুরে তেল আবিষ্কৃত হয়নি। সঠিক বছরটি হলো ১৯৮৬।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এর অফিসিয়াল রিপোর্ট।
— "ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ" এর প্রকাশনা।
— "বাংলাদেশের শক্তি সম্পদ" বিষয়ক বিভিন্ন সরকারি প্রকাশনা।