ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
ইস্পাত সাধারণ লোহা থেকে আলাদা হওয়ার মূল কারণ হলো এর গঠনগত পার্থক্য। সাধারণ লোহা (পিগ আয়রন) উচ্চ কার্বনযুক্ত (২-৪%) এবং ভঙ্গুর হয়, যেখানে ইস্পাত হলো লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যার কার্বন উপাদান সাধারণত ০.২% থেকে ২.১% পর্যন্ত থাকে। এই কার্বনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিতভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে ইস্পাতকে শক্তিশালী, নমনীয় এবং টেকসই করা হয়।
**ইস্পাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ইস্পাত হলো লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু, যেখানে কার্বনের পরিমাণ সাধারণত ০.২% থেকে ২.১% পর্যন্ত থাকে। এর ফলে ইস্পাত সাধারণ লোহার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং টেকসই হয়।
— ইস্পাত তৈরির প্রক্রিয়ায় লোহাকে গলিয়ে তাতে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন যুক্ত করা হয়। এছাড়া ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, নিকেল প্রভৃতি উপাদানও যুক্ত করা হয় যাতে ইস্পাতের বৈশিষ্ট্য উন্নত হয়।
— ইস্পাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ শক্তি, নমনীয়তা এবং ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা। এ কারণে ইস্পাত বিভিন্ন নির্মাণ কাজ, যন্ত্রপাতি, যানবাহন প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়।
— ইস্পাতকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা যায়, যেমন টেম্পারিং, কুয়েঞ্চিং, অ্যানিলিং ইত্যাদি। তবে এসব প্রক্রিয়া ইস্পাতের প্রাথমিক সংকর ধাতুর অংশ নয়, বরং পরবর্তীকালে এর বৈশিষ্ট্য উন্নত করার জন্য করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) বিশেষ ধরনের আকরিক ব্যবহার করা হয়েছে: ইস্পাত তৈরিতে সাধারণত আয়রন আকরিক ব্যবহৃত হয়, তবে বিশেষ ধরনের আকরিক ব্যবহারের কারণে ইস্পাত সাধারণ লোহা থেকে আলাদা হয় না। ইস্পাতের প্রধান পার্থক্য নির্ভর করে কার্বনের পরিমাণ ও অন্যান্য সংকর উপাদানের উপর।
✗ গ) লোহাকে টেম্পারিং করা হয়েছে: টেম্পারিং হলো ইস্পাতকে শক্তিশালী করার একটি প্রক্রিয়া, যা ইস্পাত তৈরির পর করা হয়। এটি ইস্পাতের প্রাথমিক সংকর ধাতুর অংশ নয়, তাই এটি ইস্পাতকে সাধারণ লোহা থেকে আলাদা করার কারণ নয়।
✗ ঘ) সব বিজাতীয় দ্রব্য বের করে দেয়া হয়েছে: ইস্পাত তৈরির প্রক্রিয়ায় বিজাতীয় দ্রব্য দূর করা হয়, তবে এটি ইস্পাতকে সাধারণ লোহা থেকে আলাদা করার প্রধান কারণ নয়। ইস্পাতের প্রধান পার্থক্য নির্ভর করে কার্বনের পরিমাণ ও অন্যান্য সংকর উপাদানের উপর।
উৎস:
— "Metallurgy: Principles and Practice" by Reginald A. Higgins
— "Introduction to Physical Metallurgy" by Sidney H. Avner
— বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ধাতুবিদ্যা বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক