ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ডায়েট
জাপানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
জাপান একটি সংসদীয় গণতন্ত্র যেখানে রাজতন্ত্রও বিদ্যমান। দেশটির সরকার ব্যবস্থা মূলত তিনটি শাখায় বিভক্ত: আইনসভা (ডায়েট), কার্যনির্বাহী (মন্ত্রিসভা) এবং বিচার বিভাগ। জাপানের পার্লামেন্টকে বলা হয় "কোক্কাই" (国会), যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো "ডায়েট"। এটি বিশ্বের অন্যতম পুরাতন সংসদীয় ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।
**ডায়েট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ডায়েট হলো জাপানের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা। এটি দুইটি কক্ষে বিভক্ত:
1. **হাউস অব কাউন্সিলরস (শ্যুগি-ইন, 参議院)** – উচ্চকক্ষ, সদস্য সংখ্যা ২৪৫ জন, মেয়াদ ৬ বছর।
2. **হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (শিউগি-ইন, 衆議院)** – নিম্নকক্ষ, সদস্য সংখ্যা ৪৬৫ জন, মেয়াদ ৪ বছর।
— ডায়েটের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন, জাতীয় বাজেট অনুমোদন এবং সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা।
— জাপানের সম্রাটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ব্যতীত কোনো আইন কার্যকর হয় না, তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকেন।
— ডায়েটের অধিবেশন সাধারণত বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হয়: জানুয়ারিতে (সাধারণ অধিবেশন) এবং শরৎকালে (অতিরিক্ত অধিবেশন)।
— জাপানের সংবিধান অনুযায়ী, ডায়েট হলো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী প্রতিষ্ঠান।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) রাইটখস্ট্যাপ: এটি নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টের নাম। জাপানের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ খ) রিকসড্যাগ: এটি সুইডেনের এককক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের নাম। জাপানের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট ব্যবস্থার সাথে মিল নেই।
✗ গ) ফোকেটিং: এটি ডেনমার্কের পার্লামেন্টের নাম। জাপানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
উৎস:
1. Japan's National Diet Library – অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://www.ndl.go.jp)
2. "The Constitution of Japan" – জাপান সরকার প্রকাশিত সংবিধান
3. "Politics in Japan" – বই, লেখক: Gerald L. Curtis