ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ইলেক্ট্রন বর্জন
জারণ বিক্রিয়া সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
রসায়নে জারণ বিক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পদার্থ ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে। এটি সাধারণত ধাতু বা অধাতুর সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। জারণ বিক্রিয়ার বিপরীত প্রক্রিয়া হলো বিজারণ বিক্রিয়া, যেখানে পদার্থ ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে।
**জারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জারণ বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু বা আয়ন ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে। ফলে তার জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
— উদাহরণ: 2Mg + O₂ → 2MgO
এখানে ম্যাগনেসিয়াম (Mg) ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে Mg²⁺ আয়নে পরিণত হয় এবং অক্সিজেন (O) ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে O²⁻ আয়নে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়ামের জারণ ঘটেছে।
— জারণ বিক্রিয়ার সময় ইলেক্ট্রন ত্যাগের ফলে পদার্থটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত আয়নে পরিণত হয়।
— জারণ বিক্রিয়া প্রায়শই শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে, যেমন ব্যাটারিতে।
— জারণ বিক্রিয়ার সময় পদার্থটি তড়িৎ ঋণাত্মক মৌলের সাথে যুক্ত হতে পারে, যেমন অক্সিজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি।
— জারণ বিক্রিয়ার ফলে পদার্থটির জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) ইলেক্ট্রন গ্রহণ: এটি বিজারণ বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য, জারণ বিক্রিয়ার নয়। বিজারণ বিক্রিয়ায় পদার্থ ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে।
✗ গ) ইলেক্ট্রন আদান-প্রদান: এটি জারণ-বিজারণ উভয় বিক্রিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলেও, জারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রন ত্যাগই প্রধান বৈশিষ্ট্য।
✗ ঘ) তড়িৎ ধনাত্মক মৌলের বা মূলকের অপসারণ: এটি জারণ বিক্রিয়ার সরাসরি বৈশিষ্ট্য নয়। জারণ বিক্রিয়া ইলেক্ট্রন ত্যাগের মাধ্যমে ঘটে, তড়িৎ ধনাত্মক মৌলের অপসারণ নয়।
উৎস:
- রসায়ন বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক (এসএসসি, এইচএসসি স্তর)
- সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক
- রসায়ন বিষয়ক বিশ্বস্ত অনলাইন রিসোর্স (উইকিপিডিয়া, ব্রিটানিকা)