ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি নীতিমালা। এটি সরকারি কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই কৌশলের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নৈতিকতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **প্রণয়নের উদ্দেশ্য**: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।
— **গুরুত্বপূর্ণ দিক**: এটি কর্মকর্তাদের আচরণগত উৎকর্ষের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান উন্নয়ন করে।
— **বাস্তবায়ন**: সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
— **অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান**: সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এই কৌশলের আওতায় রয়েছে।
— **আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি**: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 16) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল: এটি জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূল ধারণা নয়, বরং এটি কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির একটি অংশ মাত্র।
✗ খ) সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড: এটি আংশিক সত্য হলেও পুরোপুরি সঠিক নয়, কারণ শুদ্ধাচার কৌশল শুধু কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড নয়, বরং সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে আচরণগত উৎকর্ষ অর্জন করা।
✗ ঘ) দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড: এটি শুদ্ধাচার কৌশলের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি সঠিক নয়, কারণ শুদ্ধাচার কৌশল শুধু মানদণ্ড নয়, বরং নৈতিকতা ও সততার মাধ্যমে আচরণগত উৎকর্ষ অর্জনের কৌশল।
উৎস:
— জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল দলিল, বাংলাদেশ সরকার (২০১৮)
— গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত নির্দেশিকা
— ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও সমাধান