ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৮২ সালে
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সম্পর্কিত পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক জলসীমা ও সমুদ্র সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এই আইনের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই চুক্তির সদস্য।
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— জাতিসংঘ সমুদ্র আইনকে আনুষ্ঠানিকভাবে "জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন" (United Nations Convention on the Law of the Sea - UNCLOS) বলা হয়।
— UNCLOS-এর তৃতীয় সম্মেলন ১৯৭৩ সালে শুরু হয় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর牙মুন্ডিজে স্বাক্ষরিত হয়।
— এই চুক্তিটি ১৯৯৪ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
— UNCLOS-এর অধীনে সমুদ্রকে তিনটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে: আভ্যন্তরীণ জলসীমা, টেরিটোরিয়াল সমুদ্র (১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত), এবং এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ, ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত)।
— বাংলাদেশ UNCLOS-এর সদস্য এবং এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।
— UNCLOS-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মুক্ত চলাচল, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ১৯৭৯ সালে: জাতিসংঘ সমুদ্র আইনের আলোচনা শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালে, কিন্তু চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৮২ সালে।
✗ গ) ১৯৮৩ সালে: চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৮২ সালে, ১৯৮৩ সালে নয়।
✗ ঘ) ১৯৯৮ সালে: ১৯৯৮ সালে UNCLOS-এর কিছু সংশোধনী গৃহীত হয়েছিল, কিন্তু মূল চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৮২ সালে।
উৎস:
— United Nations Convention on the Law of the Sea (UNCLOS), 1982
— বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সমুদ্রসীমা বিষয়ক তথ্য
— "সমুদ্র আইন ও বাংলাদেশ" - ড. এম. রেজাউল করিম, বাংলা একাডেমি