ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) হাম
**শৈশবকালীন অন্ধত্ব সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:**
শৈশবকালীন অন্ধত্ব একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ শিশুকে প্রভাবিত করে। বিভিন্ন রোগ ও পুষ্টিহীনতা শৈশবকালীন অন্ধত্বের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর তথ্য অনুযায়ী, শৈশবকালীন অন্ধত্ব প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলির মধ্যে অন্যতম।
**হাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল রোগ, যা *মরবিলিভাইরাস* দ্বারা সৃষ্ট।
— প্রধানত শিশুরাই এই রোগে আক্রান্ত হয়, বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা।
— হামের প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া ও মুখে সাদা দাগ (কোপলিক স্পট) দেখা দেওয়া।
— হামের সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতাগুলির মধ্যে একটি হলো শিশুদের অন্ধত্ব হওয়া।
— হাম ভাইরাস চোখের কর্নিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে কর্নিয়া অস্বচ্ছ হয়ে যায় এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়।
— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ থেকে ২ মিলিয়ন শিশু অন্ধ হয়ে যায়।
— হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ। টিকা দেওয়ার মাধ্যমে হামের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
— বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অধীনে হামের টিকা শিশুদের দেওয়া হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) এইচআইভি/এইডস: এইচআইভি/এইডস শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়, ফলে অন্যান্য সংক্রমণের কারণে অন্ধত্ব হতে পারে, কিন্তু সরাসরি শৈশবকালীন অন্ধত্বের প্রধান কারণ নয়।
✗ খ) ম্যালেরিয়া: ম্যালেরিয়া প্রধানত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে, তবে এটি সরাসরি অন্ধত্বের কারণ নয়।
✗ ঘ) যক্ষা: যক্ষা প্রধানত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে এবং অন্যান্য অঙ্গেও ছড়াতে পারে, তবে এটি সরাসরি অন্ধত্বের কারণ নয়।
**উৎস:**
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর শৈশবকালীন অন্ধত্ব সম্পর্কিত প্রতিবেদন।
- বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির তথ্য।
- Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এর হাম সম্পর্কিত তথ্য।