ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) নূরনামা
<বিষয় সম্পর্কিত ভূমিকা>
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষামূলক গ্রন্থ হিসেবে ফার্সি ও আরবি ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ সাহিত্যের প্রচলন ছিল। এ ধারায় রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘নূরনামা’, যার অন্তর্গত উল্লিখিত কবিতাংশটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রতি কবির ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
**‘নূরনামা’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘নূরনামা’ একটি ধর্মীয় অনুবাদ সাহিত্য। এটি ফার্সি ভাষায় রচিত ‘নূরনামা’ নামক গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ।
— গ্রন্থটি রচনা করেন মুহম্মদ কবির। তিনি ছিলেন সতেরো শতকের একজন প্রখ্যাত কবি।
— ‘নূরনামা’ মূলত ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর জীবনী ও তাঁর গুণাবলির বর্ণনা সম্বলিত একটি ধর্মগ্রন্থ।
— বাংলা সাহিত্যে ধর্মীয় অনুবাদ সাহিত্যের ধারায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
— কাব্যটিতে ধর্মীয় উপাখ্যান ছাড়াও সমকালীন সমাজ ও মানুষের জীবনযাত্রার কিছু চিত্র পাওয়া যায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) নসিহতনামা: এটি একটি নৈতিক শিক্ষামূলক গ্রন্থ হলেও উল্লিখিত কবিতাংশটির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত নৈতিক উপদেশমূলক রচনা।
✗ গ) মধুমালতী: এটি একটি প্রেমকাব্য। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে রচিত প্রেমকেন্দ্রিক কাব্যগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। উল্লিখিত কবিতাংশটির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) ইউসুফ-জুলেখা: এটি একটি ধর্মীয় প্রেমকাব্য। কবি শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত এই কাব্যে হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর জীবনী ও তাঁর প্রেমকাহিনি বর্ণিত হয়েছে। উল্লিখিত কবিতাংশটির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান, *বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত* (প্রথম খণ্ড), আগামী প্রকাশনী।
— আহমদ শরীফ, *মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ধর্ম ও সমাজ*, বাংলা একাডেমি।
— আবুল আহসান চৌধুরী, *বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস*, বাংলা একাডেমি।