ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) দ্বিগু সমাস
সমাস হলো বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেখানে একাধিক শব্দকে একত্রিত করে নতুন শব্দ গঠন করা হয়। সমাসের মাধ্যমে ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও অর্থপূর্ণ করা যায়। যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদ দ্বারা সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
**দ্বিগু সমাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— দ্বিগু সমাস হলো একটি বিশেষ ধরনের সমাস যেখানে পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক বিশেষণ হয় এবং পরপদের অর্থকে একত্রিত করে সমষ্টি বা সমাহার বোঝায়।
— উদাহরণ: ত্রিফলা (তিন ফলের সমাহার), শতাব্দী (একশত বছর), পঞ্চবটী (পাঁচটি বটগাছ)।
— পূর্বপদটি সর্বদাই সংখ্যাবাচক বিশেষণ (এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ ইত্যাদি) হয়।
— পরপদের অর্থকে একত্রিত করে নতুন একটি অর্থ প্রকাশ করে যা সমষ্টি বা সমাহার নির্দেশ করে।
— দ্বিগু সমাসে সাধারণত পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক হয় এবং পরপদটি বিশেষ্য পদ হয়।
— দ্বিগু সমাসের উদাহরণ: ত্রিলোক (তিন লোকের সমাহার), চতুর্ভুজ (চার ভুজের সমাহার)।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) দ্বন্দ্ব সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং উভয়ের মিলিত অর্থ প্রকাশ করে। উদাহরণ: মা-বাবা, ভাই-বোন। এটি সংখ্যাবাচক নয়।
✗ খ) রূপক সমাস: যে সমাসে পরপদের সাথে পূর্বপদের তুলনা করা হয় এবং তুলনামূলক অর্থ প্রকাশ করে। উদাহরণ: মনমাঝি (মন রূপ মাঝি)। এটি সংখ্যাবাচক নয়।
✗ গ) বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের অর্থকে একত্রিত করে নতুন অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক নয়। উদাহরণ: সুবর্ণ (সু অতি বর্ণ যার)। এটি সংখ্যাবাচক নয়।
উৎস:
— বাংলা ব্যাকরণ (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক