ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ১০৫ ডিবি
শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক ডেসিবেল (ডিবি) সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানের গুরুত্ব:
শব্দের তীব্রতা মানুষের শ্রবণ ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তীব্রতার শব্দের সংস্পর্শে থাকলে শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান মানুষের শ্রবণ ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করেছে। এই প্রশ্নটি সেই সীমা সম্পর্কিত জ্ঞান পরীক্ষা করে।
**শব্দের তীব্রতা ও শ্রবণ ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **ডেসিবেল (ডিবি) স্কেল:** ডেসিবেল হলো শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক। এটি একটি লগারিদমিক স্কেল, যার অর্থ হলো প্রতি ১০ ডিবি বৃদ্ধিতে শব্দের তীব্রতা দ্বিগুণ হয়।
— **শ্রবণযোগ্য সর্বনিম্ন শব্দ:** মানুষের শ্রবণযোগ্য সর্বনিম্ন শব্দের তীব্রতা হলো **০ ডিবি**। এটি প্রায় নীরব পরিবেশের সমান।
— **সাধারণ কথোপকথন:** সাধারণ কথোপকথনের শব্দের তীব্রতা থাকে **৬০-৭০ ডিবি**।
— **গাড়ির হর্ন:** গাড়ির হর্নের শব্দের তীব্রতা থাকে **১১০ ডিবি**।
— **বধির হওয়ার ঝুঁকি শুরু:** দীর্ঘ সময় ধরে **৮৫ ডিবি** বা তার বেশি তীব্রতার শব্দের সংস্পর্শে থাকলে শ্রবণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
— **স্থায়ী ক্ষতির শুরু:** **১০৫ ডিবি** হলো সেই তীব্রতা যেখানে মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা শুরু হয়। এই মাত্রার শব্দের সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় থাকলে কানের ভেতরের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বধিরতা দেখা দিতে পারে।
— **ব্যথার অনুভূতি শুরু:** **১২০ ডিবি** হলো সেই তীব্রতা যেখানে শব্দ মানুষের জন্য অসহ্য হয়ে ওঠে এবং ব্যথার অনুভূতি শুরু হয়। এই মাত্রার শব্দের সংস্পর্শে কানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
— **বিস্ফোরণের শব্দ:** বিস্ফোরণের শব্দের তীব্রতা থাকে **১৪০ ডিবি** বা তার বেশি, যা এক মুহূর্তের সংস্পর্শেই স্থায়ী বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ৭৫ ডিবি: এই তীব্রতার শব্দ সাধারণত শ্রবণ ক্ষমতার ক্ষতি করে না, তবে দীর্ঘ সময় ধরে সংস্পর্শে থাকলে সামান্য ক্ষতি হতে পারে।
✗ খ) ৯০ ডিবি: এই তীব্রতার শব্দ শ্রবণ ক্ষমতার ক্ষতি করার ঝুঁকি শুরু করে, তবে স্থায়ী ক্ষতির জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
✗ ঘ) ১২০ ডিবি: এই তীব্রতার শব্দ মানুষের জন্য অসহ্য এবং ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে। এটি স্থায়ী বধিরতার কারণ হতে পারে, তবে প্রশ্নটি স্থায়ী ক্ষতির শুরু সম্পর্কিত।
**উৎস:**
— World Health Organization (WHO). (202