ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) জটিল
**ভূমিকা:**
বাংলা ব্যাকরণে বাক্যকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সরল বাক্য, জটিল বাক্য ও যৌগিক বাক্য। এছাড়া অনুজ্ঞামূলক বাক্য নামেও একটি বিশেষ শ্রেণি রয়েছে। পরীক্ষায় বাংলা ব্যাকরণ অংশ থেকে প্রায়ই বাক্যের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে, যার উত্তর নির্ভুলভাবে দিতে হলে প্রতিটি প্রকারের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
---
**‘জটিল বাক্য’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জটিল বাক্য হলো সেই বাক্য যেখানে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য (Principal Clause) এবং এক বা একাধিক অধীনস্থ খণ্ডবাক্য (Subordinate Clause) থাকে।
— অধীনস্থ খণ্ডবাক্যগুলো সাধারণত ‘যেহেতু’, ‘যদিও’, ‘যে’, ‘যিনি’, ‘যেখানে’, ‘যখন’, ‘যতক্ষণ’, ‘যদি’ ইত্যাদি অব্যয় দ্বারা প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
— জটিল বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্য স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু অধীনস্থ খণ্ডবাক্যগুলো প্রধান খণ্ডবাক্যের উপর নির্ভরশীল।
— উদাহরণ: "যেহেতু তুমি বেশি নম্বর পেয়েছ, সুতরাং তুমি প্রথম হবে।" এখানে "যেহেতু তুমি বেশি নম্বর পেয়েছ" হলো অধীনস্থ খণ্ডবাক্য এবং "সুতরাং তুমি প্রথম হবে" হলো প্রধান খণ্ডবাক্য।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) সরল**: সরল বাক্যে একটি মাত্র উদ্দেশ্য ও একটি মাত্র বিধেয় থাকে এবং কোনো খণ্ডবাক্য থাকে না। উদাহরণ: "তুমি বেশি নম্বর পেয়েছ।" এটি সরল বাক্য, কারণ এখানে কোনো অধীনস্থ খণ্ডবাক্য নেই।
✗ **গ) যৌগিক**: যৌগিক বাক্যে দুই বা ততোধিক সরল বাক্য সমজাতীয় অব্যয় (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা, তাই) দ্বারা যুক্ত থাকে। উদাহরণ: "তুমি বেশি নম্বর পেয়েছ এবং তুমি প্রথম হবে।" এখানে দুটি সরল বাক্য সমজাতীয় অব্যয় দ্বারা যুক্ত।
✗ **ঘ) অনুজ্ঞামূলক**: অনুজ্ঞামূলক বাক্য হলো সেই বাক্য যেখানে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়। উদাহরণ: "তুমি বেশি নম্বর পাও।" এটি আদেশ বা উপদেশ প্রকাশ করছে, তাই অনুজ্ঞামূলক বাক্য।
---
**উৎস:**
- বাংলা ব্যাকরণের প্রামাণ্য গ্রন্থ: "বাংলা ব্যাকরণ" (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বাংলা ব্যাকরণ পাঠ্যপুস্তক
- বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (বাংলা ব্যাকরণ অংশ)