ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) আইসোটোপ
পরমাণুর গঠন ও নিউক্লিয়াস সম্পর্কিত ধারণা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা ও ভরসংখ্যার পার্থক্য বুঝতে পারলে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর সহজেই দেওয়া যায়।
**আইসোটোপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— আইসোটোপ হলো একই মৌলের বিভিন্ন ধরনের পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় ভরসংখ্যা আলাদা হয়।
— উদাহরণ: কার্বনের আইসোটোপগুলো হলো কার্বন-১২ (৬টি প্রোটন, ৬টি নিউট্রন), কার্বন-১৩ (৬টি প্রোটন, ৭টি নিউট্রন), কার্বন-১৪ (৬টি প্রোটন, ৮টি নিউট্রন)। এখানে প্রোটন সংখ্যা সবসময় ৬ হলেও ভরসংখ্যা ভিন্ন।
— আইসোটোপগুলোর রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই থাকে কারণ রাসায়নিক বিক্রিয়া নির্ভর করে প্রোটন সংখ্যার উপর।
— প্রকৃতিতে বেশিরভাগ মৌলের একাধিক আইসোটোপ থাকে। যেমন: হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে—প্রোটিয়াম (¹H), ডিউটেরিয়াম (²H), ট্রিটিয়াম (³H)।
— আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানে (যেমন: আয়োডিন-১৩১ ক্যান্সার চিকিৎসায়), শক্তি উৎপাদনে (ইউরেনিয়াম-২৩৫ পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত হয়), এবং গবেষণায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আইসোবার: যেসব নিউক্লিয়াসের ভরসংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদের আইসোবার বলে। উদাহরণ: কার্বন-১৪ (৬টি প্রোটন) ও নাইট্রোজেন-১৪ (৭টি প্রোটন) উভয়ের ভরসংখ্যা ১৪, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন।
✗ গ) আইসোটোন: যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদের আইসোটোন বলে। উদাহরণ: কার্বন-১৩ (৬টি প্রোটন, ৭টি নিউট্রন) ও নাইট্রোজেন-১৪ (৭টি প্রোটন, ৭টি নিউট্রন) উভয়ের নিউট্রন সংখ্যা ৭।
✗ ঘ) আইসোমার: যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা, নিউট্রন সংখ্যা ও ভরসংখ্যা সমান কিন্তু শক্তিস্তরের পার্থক্য থাকে তাদের আইসোমার বলে। এটি নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরীণ শক্তিস্তরের পার্থক্যের কারণে ঘটে।
উৎস:
— পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ক বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যপুস্তক (৯ম-১২শ শ্রেণি)।
— সাধারণ বিজ্ঞান ও পরমাণুবিজ্ঞান সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক।
— জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) কর্তৃক অনুমোদিত বিজ্ঞান বিষয়ক বই।