ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের প্রভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন।
**কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) দহনের প্রধান উৎপাদিত গ্রিনহাউস গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির প্রধান উপাদান কার্বনের দহনের ফলে উৎপন্ন হয়।
— বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রায় ৭৬% দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য, যার প্রধান উৎস হলো CO₂।
— বায়ুমণ্ডলে CO₂-এর ঘনত্ব শিল্প বিপ্লবের পূর্বে ছিল প্রায় ২৮০ পার্টস পার মিলিয়ন (ppm), যা বর্তমানে প্রায় ৪২০ ppm-এ পৌঁছেছে।
— CO₂-এর আয়ুষ্কাল দীর্ঘ হওয়ায় এটি শত শত বছর ধরে বায়ুমণ্ডলে অবস্থান করে এবং তাপ ধরে রাখে।
— জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৩৬.৪ বিলিয়ন টন CO₂ নির্গত হয় (২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী)।
**জলীয় বাষ্প সম্পর্কে:**
— জলীয় বাষ্প (H₂O) প্রকৃতিতে বিদ্যমান একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, তবে এটি জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে সরাসরি বৃদ্ধি পায় না।
— এটি প্রধানত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা রয়েছে।
**ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) সম্পর্কে:**
— ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) হলো মানবসৃষ্ট রাসায়নিক যৌগ, যা প্রধানত রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিংয়ে ব্যবহৃত হতো।
— এটি ওজোন স্তর ক্ষয়কারী গ্যাস হিসেবে পরিচিত, তবে গ্রিনহাউস প্রভাবেও ভূমিকা রাখে।
— মন্ট্রিল প্রটোকলের মাধ্যমে এর উৎপাদন ও ব্যবহার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
**মিথেন (CH₄) সম্পর্কে:**
— মিথেন হলো একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস, যার বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ক্ষমতা CO₂-এর তুলনায় প্রায় ২৮-৩৬ গুণ বেশি।
— জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনের সময় মিথেন নির্গমন ঘটে, তবে এর পরিমাণ CO₂-এর তুলনায় অনেক কম।
— কৃষি কার্যক্রম (ধান চাষ, পশুপালন) থেকেও মিথেন নির্গত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) জলীয় বাষ্প: জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে সরাসরি বৃদ্ধি পায় না, বরং প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান।
✗ খ) ক্লোরোফ্লোরোকার্বন: মানবসৃষ্ট গ্যাস হলেও জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে নির্গত হয় না এবং এর উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত।
✗ ঘ) মিথেন: শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস হলেও নির্গমনের পরিমাণ CO₂-এর তুলনায় কম এবং প্রধান উৎস জীবাশ্ম জ্বালানি নয়।
**উৎস:**
— IPCC (Intergovernmental Panel on Climate Change) রিপোর্ট (২০২১)
— NASA Climate Change and Global Warming