ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) গামা রশ্মি
জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলে গামা রশ্মি। এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ, যা জীবিত কোষের ডিএনএ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অণুকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
**গামা রশ্মি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গামা রশ্মি হলো তেজস্ক্রিয় ক্ষয় বা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ।
— এটি আলোর গতিতে ভ্রমণ করে এবং মানুষের দৃষ্টিশক্তির সীমার বাইরে অবস্থিত।
— গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য অত্যন্ত ক্ষুদ্র (১০⁻¹² মিটারের চেয়েও কম), ফলে এর শক্তি অত্যন্ত বেশি।
— এটি জীবিত কোষের ডিএনএ ভেঙে দিতে পারে, যার ফলে ক্যান্সার, বিকৃতি বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
— গামা রশ্মি শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে টিস্যু ধ্বংস করতে পারে।
— এটি বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে (যেমন ক্যান্সার চিকিৎসায়) ব্যবহৃত হয়, তবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করলে মারাত্মক ক্ষতি হয়।
— গামা রশ্মির উৎস হিসেবে পারমাণবিক বিস্ফোরণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কিছু ধরনের মেডিকেল ইমেজিং যন্ত্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) আলফা রশ্মি: আলফা রশ্মি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিসম্পন্ন এবং এটি কাগজ বা মানব ত্বক দ্বারা সহজেই প্রতিহত করা যায়। এটি প্রধানত বাইরের দিকে ক্ষতি করে।
✗ (খ) বিটা রশ্মি: বিটা রশ্মি আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি শক্তিশালী হলেও গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর। এটি পাতলা ধাতব পদার্থ বা কয়েক মিলিমিটার প্লাস্টিক দ্বারা প্রতিহত করা যায়।
✗ (ঘ) আলট্রাভায়োলেট রশ্মি: আলট্রাভায়োলেট রশ্মি সূর্যালোকের একটি অংশ হলেও এটি গামা রশ্মির তুলনায় অনেক কম শক্তিশালী। এটি প্রধানত ত্বকের ক্ষতি করে, তবে জীবকোষের জন্য তাৎক্ষণিক মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে না।
উৎস:
— "Radioactivity and Radiation Protection" by James E. Martin
— "Introduction to Nuclear Engineering" by John R. Lamarsh
— BCS Preliminary General Knowledge Guide (বাংলা একাডেমি প্রকাশিত)