ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) জহির রায়হান
‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র, যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
**জহির রায়হান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি চলচ্চিত্র পরিচালক, লেখক ও সাংবাদিক। তিনি ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হয়।
— জহির রায়হান নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০), ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ‘সংগ্রাম’ (১৯৬২), ‘বাহানা’ (১৯৬৫), ‘স্টপ জেনোসাইড’ (১৯৭১) ইত্যাদি।
— ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধের আগে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তুলে ধরে। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।
— তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
— জহির রায়হান ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুরে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নিহত হন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আমজাদ হোসেন: তিনি একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন, তবে ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন না। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘ভাইয়া’ (১৯৭২) ইত্যাদি।
✗ খ) আলমগীর: তিনি একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন, তবে চলচ্চিত্র পরিচালনা করেননি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যগ্রহণ’ (১৯৭৬), ‘এখনই সময়’ (১৯৮০) ইত্যাদি।
✗ ঘ) সুভাষ দত্ত: তিনি একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন, তবে ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন না। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অবুঝ হৃদয়’ (১৯৭২), ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ (১৯৭৯) ইত্যাদি।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র সংরক্ষণাগার
— ‘জহির রায়হান: জীবন ও কর্ম’ (লেখক: আবুল কাসেম ফজলুল হক)
— ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র: ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ (লেখক: মোহাম্মদ আলী আরিফ)