ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) অর্ধ-তৎসম
**‘অর্ধ-তৎসম’ শব্দ সম্পর্কে ধারণা:**
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত এমন সব শব্দকে **অর্ধ-তৎসম** বলা হয় যেগুলো সংস্কৃত থেকে সরাসরি না এসে কিছু পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ, সংস্কৃত শব্দের কিছুটা বিকৃতি ঘটিয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের শব্দগুলো সংস্কৃতের কাছাকাছি হলেও পুরোপুরি সংস্কৃত নয়।
**‘জোছনা’ শব্দ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘জোছনা’ শব্দটি সংস্কৃত ‘জ্যোৎস্না’ (ज्योत्स्ना) থেকে উদ্ভূত।
— সংস্কৃত ‘জ্যোৎস্না’ শব্দটি বাংলায় ব্যবহারের সময় কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে ‘জোছনা’ রূপ ধারণ করেছে।
— সংস্কৃত থেকে সরাসরি না এসে পরিবর্তিত হওয়ার কারণে এটি **অর্ধ-তৎসম** শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
— বাংলা একাডেমির অভিধানেও ‘জোছনা’ শব্দটি অর্ধ-তৎসম হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) যৌগিক**: যৌগিক শব্দ বলতে বোঝায় দুটি বা ততোধিক শব্দাংশ মিলে গঠিত শব্দ। যেমন: ‘গায়েহলুদ’ (গা + হলুদ)। ‘জোছনা’ একক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি যৌগিক নয়।
✗ **খ) তৎসম**: তৎসম শব্দ বলতে বোঝায় সরাসরি সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিতভাবে বাংলায় গৃহীত শব্দ। যেমন: ‘চন্দ্র’, ‘সূর্য’। ‘জোছনা’ সংস্কৃত ‘জ্যোৎস্না’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে, তাই এটি তৎসম নয়।
✗ **গ) দেশী**: দেশী শব্দ বলতে বোঝায় আদিবাসী বা স্থানীয় ভাষা থেকে আগত শব্দ। যেমন: ‘ধান’, ‘লাউ’। ‘জোছনা’ সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত, তাই এটি দেশী নয়।
**উৎস:**
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৬ সংস্করণ)
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’
— বিসিএস সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নব্যাংক (বাংলা একাডেমি প্রকাশিত)