ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সূর্য-দীঘল বাড়ী
‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উপন্যাস হিসেবে পরিচিত, যা গ্রামীণ জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও সামাজিক বৈষম্যকে তুলে ধরে।
‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ উপন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— লেখক: আবু ইসহাক (১৯২৬–২০০৩)। তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি সাহিত্যিক, যিনি বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
— প্রকাশকাল: উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। এটি আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত।
— পটভূমি: উপন্যাসটির মূল পটভূমি বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ, বিশেষ করে ফরিদপুর অঞ্চলের কৃষক জীবন। এখানে সামন্তবাদী ব্যবস্থা, জমিদারি শোষণ এবং গ্রামীণ জনগণের দুর্দশা চিত্রিত হয়েছে।
— প্রধান চরিত্র: জয়গুন। জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, যিনি একজন দরিদ্র কৃষক পরিবারের নারী। তার জীবনের সংগ্রাম, দুঃখ-কষ্ট এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।
— অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র: মজিদ (জয়গুন স্বামী), রহিমা (জয়গুনের মেয়ে), কাদের (জয়গুনের ছেলে)।
— সাহিত্যিক মূল্যায়ন: উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি গ্রামীণ জীবনের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক অসংগতি ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে।
— পুরস্কার ও সম্মাননা: আবু ইসহাক এই উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) জননী: ‘জননী’ উপন্যাসের লেখক শওকত আলী। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলেন রহিমা, জয়গুন নয়।
✗ গ) সারেং বৌ: ‘সারেং বৌ’ উপন্যাসের লেখক শহীদুল্লাহ কায়সার। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলেন জয়গুন নয়, বরং অন্য চরিত্র যেমন রহিমা বা অন্যান্য।
✗ ঘ) হাজার বছর ধরে: ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের লেখক জহির রায়হান। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জয়গুন নয়, বরং অন্যান্য চরিত্র যেমন মজিদ, রহিমা প্রভৃতি।
উৎস:
— আবু ইসহাক, ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ (১৯৫৫), মুক্তধারা প্রকাশনী।
— বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্তি সংক্রান্ত তথ্য।
— বিভিন্ন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থ।