ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) পানি সেচ
লবণাক্ততা হলো মাটিতে অতিরিক্ত লবণের উপস্থিতি, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। লবণাক্ত মাটিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়, কারণ উচ্চ লবণাক্ততা উদ্ভিদের মূল দ্বারা পানির শোষণ ক্ষমতা হ্রাস করে এবং উদ্ভিদের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়।
**লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে পানি সেচের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ**: পানি সেচের মাধ্যমে মাটিতে অতিরিক্ত লবণ ধুয়ে ফেলা যায়। নিয়মিত সেচের ফলে মাটির উপরের স্তরের লবণ নিচে চলে যায় এবং মাটির লবণাক্ততা কমে।
— **ড্রেনেজ ব্যবস্থা**: সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি মাটি থেকে বের হয়ে যায়, ফলে মাটির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
— **ফসল নির্বাচন**: লবণাক্ততা সহনশীল ফসল যেমন ধান, সরিষা, বার্লি ইত্যাদি চাষ করা যায়। এছাড়া লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনেও গবেষণা চলছে।
— **জৈব পদার্থ প্রয়োগ**: জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং লবণাক্ততার প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) কৃত্রিম সার প্রয়োগ: কৃত্রিম সার প্রয়োগ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে পারে, কিন্তু লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখে না। বরং অতিরিক্ত সার প্রয়োগ মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি করতে পারে।
✗ গ) জমিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা: নাইট্রোজেন ধরে রাখা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখে না। লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে পানির ভূমিকাই প্রধান।
✗ ঘ) প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ: প্রাকৃতিক সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে পারে, কিন্তু লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলে না। লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে পানির ভূমিকাই মুখ্য।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রকাশনা।
— "Soil Salinity and Water Management" — FAO (Food and Agriculture Organization) প্রকাশিত গাইডলাইন।
— বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল।