সঠিক উত্তর: (গ) ৫০ টি
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত যমুনা বহুমুখী সেতু (যা বঙ্গবন্ধু সেতু নামেও পরিচিত)। এই সেতুটি দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছে। সেতুটির নির্মাণকৌশল ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা প্রতিটি সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
**বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **অবস্থান ও দৈর্ঘ্য**: যমুনা নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলা থেকে শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলায় শেষ হয়েছে। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য **৪.৮ কিলোমিটার** (৪,৮০০ মিটার)।
— **নির্মাণকাল**: সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় **১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে** এবং সমাপ্ত হয় **১৯৯৮ সালের জুন মাসে**। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় **১৯৯৮ সালের ২৩ জুন**।
— **পিলারের সংখ্যা**: সেতুটির মোট **৫০টি পিলার** রয়েছে। প্রতিটি পিলার নদীর তলদেশ থেকে উপরের অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সেতুর ভার বহনকারী প্রধান কাঠামো হিসেবে কাজ করে।
— **ডিজাইন ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান**: সেতুটির নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণের দায়িত্বে ছিল **জাপানের কোবেতা কর্পোরেশন** এবং বাংলাদেশ সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
— **যান চলাচল**: সেতুটির উপর দিয়ে **দুই লেনের যানবাহন চলাচল** ব্যবস্থা রয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ততম সেতুগুলোর মধ্যে একটি।
— **অর্থায়ন**: সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় **৯৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার**, যার বেশিরভাগই জাপান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছিল।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) ৭৫ টি**: এই সংখ্যাটি যমুনা সেতুর পিলারের সংখ্যার সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি অন্য কোনো সেতু বা অবকাঠামোর উল্লেখ হতে পারে, যেমন পদ্মা সেতুর পিলারের সংখ্যা।
✗ **খ) ৫৯ টি**: এই সংখ্যাটিও যমুনা সেতুর পিলারের সংখ্যার সাথে মিলে না। এটি অন্য কোনো প্রকল্প বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হতে পারে।
✗ **ঘ) ৪৫ টি**: এই সংখ্যাটি যমুনা সেতুর পিলারের সংখ্যার চেয়ে কম। এটি অন্য কোনো সেতু বা অবকাঠামোর উল্লেখ হতে পারে, যেমন মেঘনা সেতুর পিলারের সংখ্যা।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিএসিআই) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রকাশনা।
— যমুনা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের অফিসিয়াল প্রতিবেদন।
— বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক বই।