ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) চারটি রেডক্রস কনভেনশন’ নামে
যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘর্ষ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নে জেনেভা কনভেনশনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই কনভেনশনসমূহ যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক জনগণ, যুদ্ধবন্দী এবং আহত সৈনিকদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই কনভেনশনের সদস্য, যা যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**জেনেভা কনভেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **প্রথম জেনেভা কনভেনশন (১৮৬৪):** এই কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের সেবা ও যত্ন প্রদান। এটি আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্টের উদ্যোগে গৃহীত হয়। এই কনভেনশনের ফলে যুদ্ধবন্দীদের প্রতি মানবিক আচরণের নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত হয়।
— **দ্বিতীয় জেনেভা কনভেনশন (১৯০৬):** এই কনভেনশনটি সমুদ্রযুদ্ধে আহত, অসুস্থ এবং জাহাজডুবিজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য প্রণীত হয়। এটি প্রথম কনভেনশনের সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
— **তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন (১৯২৯):** এই কনভেনশনটি যুদ্ধবন্দীদের প্রতি আচরণের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এটি যুদ্ধবন্দীদের সাথে মানবিক আচরণ, তাদের মৌলিক অধিকার এবং প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করে।
— **চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন (১৯৪৯):** এই কনভেনশনটি যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা প্রদানের জন্য প্রণীত হয়। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক জনগণের অধিকার, তাদের সম্পত্তির সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ‘দুটি রেডক্রস কনভেনশন’ নামে: এটি ভুল কারণ জেনেভা কনভেনশন চারটি ধারায় বিভক্ত, দুটি নয়।
✗ খ) ‘তিনটি রেডক্রস কনভেনশন’ নামে: এটি ভুল কারণ জেনেভা কনভেনশনের চারটি ধারা রয়েছে, তিনটি নয়।
✗ ঘ) ‘পাঁচটি রেডক্রস কনভেনশন’ নামে: এটি ভুল কারণ জেনেভা কনভেনশনে চারটি ধারা রয়েছে, পাঁচটি নয়।
**উৎস:**
— আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (ICRC) কর্তৃক প্রকাশিত "জেনেভা কনভেনশনসমূহ"।
— বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত "আন্তর্জাতিক মানবিক আইন" বিষয়ক পুস্তিকা।
— বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও বিসিএস প্রস্তুতি গাইড।