ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ
**জুম চাষ বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতি। এটি মূলত পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয় জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয়।**
**জুম চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **জুম চাষ** হলো একটি স্থানান্তরিত কৃষিপদ্ধতি, যেখানে বনভূমি পরিষ্কার করে অস্থায়ীভাবে চাষাবাদ করা হয়। কয়েক বছর পর জমির উর্বরতা কমে গেলে তা পরিত্যক্ত করে নতুন এলাকায় চাষ শুরু করা হয়।
— বাংলাদেশে **জুম চাষ** প্রধানত **পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে** প্রচলিত। এখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং, লুসাই প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকে।
— **জুম চাষের প্রধান ফসল** হলো ধান, ভুট্টা, তুলা, সরিষা, আদা, হলুদ, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ইত্যাদি।
— **জুম চাষের সময়কাল** সাধারণত ২-৩ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরপর জমির উর্বরতা কমে গেলে তা পরিত্যক্ত করা হয় এবং নতুন এলাকায় চাষ শুরু করা হয়।
— **জুম চাষের প্রভাব:** এটি পরিবেশের উপর কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যেমন বনভূমি ধ্বংস, মাটির ক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি ইত্যাদি। তবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
— বাংলাদেশ সরকার **জুম চাষ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের** জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেমন জুম চাষের এলাকা নির্ধারণ, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতি প্রচলন ইত্যাদি।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) সাতক্ষিরা, যশোহর, কুষ্টিয়া: এই জেলাগুলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে জুম চাষের প্রচলন নেই। এখানে সাধারণত স্থায়ী কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
✗ (খ) নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ: এই জেলাগুলো বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এখানে জুম চাষের প্রচলন নেই। এসব অঞ্চলে প্রধানত ধান, গম, পাট প্রভৃতি ফসল চাষ করা হয়।
✗ (গ) বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম: এই জেলাগুলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। এখানেও জুম চাষের প্রচলন নেই। এসব অঞ্চলে প্রধানত স্থায়ী কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
**উৎস:**
- বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)
- পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড
- বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম
- বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিবেদন