ব্যাখ্যা
•
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি।
যথা-
– যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
– বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
– ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
– প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
– চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।
– নজরুলের আরও কিছু বই বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশ থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়নি।
যেমন- অগ্নিবীণা, সঞ্চিতা, ফণিমনসা, সর্বহারা, রুদ্রমঙ্গল এ বইগুলো বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশ থাকলেও নিষিদ্ধ হয়নি।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে
,
কাজী নজরুল ইসলামের
‘
অগ্নিবীণা
‘
কাব্যগ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয়নি।
তবে এই কাব্যের অংশবিশেষ বা এর সাথে সম্পর্কিত কবিতা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বিশেষত ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সালে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার ১২-তম সংখ্যায় নজরুলের রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশের জন্য ব্রিটিশ সরকার নজরুলকে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে এবং ঐ সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করে। তবে, অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি কখনো নিষিদ্ধ হয়নি, বরং এর প্রকাশনা ব্রিটিশ শাসনের অধীনেই সম্পন্ন হয়েছিল।
১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো হলো:
•
“
যুগবাণী” প্রবন্ধ গ্রন্থ:
– নজরুলের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম “যুগবাণী”। ‘নবযুগ’ পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি নিবন্ধনের সংকলন হলো এই ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধ গ্রন্থটি।
– ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে তৎকালীন বাংলার ব্রিটিশ সরকার বইটি বাজেয়াপ্ত করে (গেজেট নং ১৬৬৬১পি)। সেন্ট্রাল প্রভিন্স ও বর্মা সরকার যুগপৎ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে “যুগবাণী” নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
– তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ‘যুগবাণী’কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।’ক্রীতদাস মানসিকতার’ ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।
•
‘
বিষের বাঁশি” ও “ভাঙার গান” কাব্যগ্রন্থ:
– দ্বিতীয় পর্যায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় নজরুলের দুটি কবিতার বই ‘বিষের বাঁশি” ও “ভাঙার গান”।
– ১৯২৪ সালের ২২ অক্টোবর (মতান্তরে ২৪ অক্টোবর) গেজেট ঘোষণায় (গেজেট নং-১০৭২পি) ‘বিষের বাঁশি’ নিষিদ্ধ হয়। ‘ভাঙার গান’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় ১৯২৪ সালের ১১ নভেম্বর।
•
‘
প্রলয়শিখা
’
কাব্যগ্রন্থ:
– কাজী নজরুল ইসলামের চতুর্থ নিষিদ্ধ হওয়া গ্রন্থের নাম প্রলয়শিখা। প্রলয়শিখা কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩০ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৩০ সালের ১৭সেপ্টেম্বর গ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয়।
– এই গ্রন্থের ‘যতীন দাশ’, ‘পূজা অভিনয়’, ‘হবে জয়’, ‘জাগরণ’, ‘নব ভারতের হলদিঘাট’ প্রভৃতি কবিতাগুলোকে রাজদ্রোহমূলক আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ (গেজেট নং ১৪০৮৭পি) করা হয়।
•
“
চন্দ্রবিন্দু” সঙ্গীত-গ্রন্থ:
কবির সর্বশেষ নিষিদ্ধ হওয়া গ্রন্থ “চন্দ্রবিন্দু”। এটি একটি গীতিগ্রন্থ। ১৪ অক্টোবর ১৯৩১ তারিখে ‘চন্দ্রবিন্দু’ নিষিদ্ধ হয় (গেজেট নং ১৭৬২৫)।
উপসংহার:
– কাজী নজরুলের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম ‘যুগবাণী’।
১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
– প্রথম নিষিদ্ধ হওয়া কাব্যগ্রন্থ – বিষের বাঁশি।
১৯২৪ সালের ২২ অক্টোবর (মতান্তরে ২৪ অক্টোবর) গেজেট ঘোষণায় (গেজেট নং-১০৭২পি) ‘বিষের বাঁশি’ নিষিদ্ধ হয়।
– কবির সর্বশেষ নিষিদ্ধ হওয়া গ্রন্থ “চন্দ্রবিন্দু”। এটি একটি গানের সংকলন।
১৪ অক্টোবর ১৯৩১ তারিখে ‘চন্দ্রবিন্দু’ নিষিদ্ধ হয় (গেজেট নং – ১৭৬২৫)।
– পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হয়। এই রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় ৮ নভেম্বর পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; নিষিদ্ধ নজরুল, শিশির কর; প্রথম আলো ও দৈনিক সমকালে প্রকাশিত নজরুল জন্মবার্ষিকীর বিশেষ সংখ্যা এবং বাংলাপিডিয়া।