ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) যুগবাণী
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম ও ব্রিটিশ বিরোধী লেখনী সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলাম তার লেখনীর মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার রচিত বিভিন্ন গ্রন্থ ও প্রবন্ধ ব্রিটিশ সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিল। মোট পাঁচটি গ্রন্থ ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়। এসব গ্রন্থের মধ্যে প্রথম বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
**যুগবাণী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— যুগবাণী হলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধ সংকলন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে।
— এই গ্রন্থে নজরুল ইসলাম ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভারতীয়দের স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন।
— যুগবাণী প্রকাশের পরপরই ব্রিটিশ সরকার এই গ্রন্থটিকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ঘোষণা করে এবং তা বাজেয়াপ্ত করে।
— এটি ছিল নজরুল ইসলামের লেখা প্রথম গ্রন্থ যা ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
— যুগবাণীতে অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলোতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবতাবাদের চিন্তাধারা প্রকাশ পেয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) বিষের বাঁশি: বিষের বাঁশি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। এটি ছিল নজরুলের একটি কাব্যগ্রন্থ। ব্রিটিশ সরকার বিষের বাঁশিকে বাজেয়াপ্ত করে ঠিকই, কিন্তু এটি যুগবাণীর পরে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
✗ গ) ভাঙার গান: ভাঙার গান প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। এটি ছিল একটি কাব্যগ্রন্থ। ব্রিটিশ সরকার এই গ্রন্থটিকেও বাজেয়াপ্ত করেছিল, তবে তা যুগবাণীর পরে।
✗ ঘ) প্রলয় শিখা: প্রলয় শিখা প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে। এটি ছিল একটি কাব্যগ্রন্থ। ব্রিটিশ সরকার এই গ্রন্থটিকেও বাজেয়াপ্ত করেছিল, তবে তা যুগবাণীর অনেক পরে।
উৎস:
— কাজী নজরুল ইসলাম রচনাবলী (বাংলা একাডেমি)
— নজরুল ইনস্টিটিউট প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যসূত্র
— বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল